২০২৯ সালে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রম, গবেষণা ও শিক্ষাদান পদ্ধতির সঙ্গে শিল্প খাতের চাহিদার সমন্বয় জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক আবদুল্লাহ-আল-মামুন।
তিনি বলেন, দক্ষ মানবসম্পদ, উদ্ভাবনী সক্ষমতা ও প্রতিযোগিতামূলক শিল্পব্যবস্থা গড়ে তুলতে শিল্প ও একাডেমিয়ার মধ্যে কার্যকর সহযোগিতার বিকল্প নেই। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পোদ্যোক্তাদের মধ্যে আস্থা তৈরি করতে হবে, যাতে শিল্পের বাস্তব সমস্যার সমাধানে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাকে কাজে লাগায়।
বুধবার চট্টগ্রামের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের কনফারেন্স হলে দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া কোলাবোরেশন’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে শিল্পোদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের অতিথি বক্তা হিসেবে আমন্ত্রণ, পাঠ্যক্রম প্রণয়ন ও সংশোধনে শিল্প খাতের প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করা, শিক্ষার্থীদের জন্য শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপের সুযোগ তৈরি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার ফল বাণিজ্যিকীকরণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। পাশাপাশি যৌথ গবেষণা কার্যক্রম বাড়ানোর আহ্বান জানান।
আলোচনায় একাডেমিয়ার পক্ষে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আল-ফোরকান। শিল্প খাতের পক্ষে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সভাপতি ও পোর্ট ইউজার্স ফোরামের চেয়ারম্যান আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী।
মোহাম্মদ আল-ফোরকান বলেন, শিল্পের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পাঠ্যক্রম তৈরি করতে শিক্ষাব্যবস্থায় মৌলিক কাঠামোগত পরিবর্তন প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে সরাসরি পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতার মধ্যে আসতে হবে।
তিনি বলেন, একাডেমিয়া ও শিল্প খাতের অনেক সমস্যার পেছনে রয়েছে যোগাযোগ, অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সমন্বিত উদ্যোগের ঘাটতি। বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্ঞান, গবেষণা ও মেধাকে শিল্পের বাস্তব সমস্যা সমাধানে কাজে লাগানোর পাশাপাশি নিয়োগদাতাদের প্রত্যাশিত দক্ষতা ও যোগ্যতা পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এ জন্য শিক্ষাবিদ ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে নিয়মিত আলোচনা প্রয়োজন।
চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, শিল্প খাতের চাহিদার সঙ্গে শিক্ষাব্যবস্থার সমন্বয় ঘটিয়ে দক্ষ ও কর্মমুখী মানবসম্পদ গড়ে তুলতে শিল্প-একাডেমিয়া সহযোগিতা বাড়াতে হবে। শিক্ষা শুধু সনদ অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, অর্জিত জ্ঞানকে বাস্তব কর্মক্ষেত্রে প্রয়োগের উপযোগী করে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতের অর্থনীতি হবে আরও প্রতিযোগিতামূলক ও চ্যালেঞ্জিং। তাই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বিশেষায়িত দক্ষতা, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন স্নাতক তৈরি করতে হবে, যারা অর্থনীতির ভবিষ্যৎ চাহিদা মোকাবিলা করতে পারবেন।
পোর্ট ইউজার্স ফোরামের চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সভাপতি আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী বলেন, শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও উদ্ভাবনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে একাডেমিক জ্ঞানকে শিল্পের বাস্তব চাহিদার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। এতে দক্ষ পেশাজীবী তৈরি, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়বে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আল-আমিন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ও গবেষণাকে শিল্প খাতের উন্নয়ন এবং বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কাজে লাগাতে শিল্প-একাডেমিয়া সহযোগিতা প্রয়োজন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. শফিকুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগার ও ল্যাবরেটরির উন্নয়নে ব্যবসায়ীদের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিল থেকে অর্থ সহায়তার আহ্বান জানান।
গোলটেবিল আলোচনায় আরও বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আলী আহমেদ, একেখান গ্রুপের চেয়ারম্যান সালাহউদ্দীন কাসেম খান, চেম্বারের সাবেক পরিচালক মঈনুল ইসলাম মাহমুদ চৌধুরী ও এম মহিউদ্দিন চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য এস এম ফজলুল হক।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোহাম্মদ সালেহ জহুর, চেম্বারের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মো. আমজাদ হোসেন চৌধুরী, পরিচালক মো. নাসির উদ্দিন চৌধুরী, কামাল মোস্তফা চৌধুরী, আসাদ ইফতেখার, মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম, সরোয়ার আলম খান ও মো. সেলিম নুর, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ হাসান মিয়াসহ বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক এবং ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


