সব প্রস্তুতি শেষ করার পাশাপাশি সাড়ে পাঁচ শ টিকিট বিক্রির পরও জেলা প্রশাসনের সম্মতি না পাওয়ায় কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিনগামী পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হচ্ছে না। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তিনটি জাহাজের সেন্টমার্টিন যাওয়ার কথা থাকলেও নতুন প্রশাসনিক জটিলতায় তা আটকে গেছে।
এর ফলে প্রবাল দ্বীপে ভ্রমণের পরিকল্পনা করা পর্যটকেরা শেষ মুহূর্তে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত টিকিট বিক্রি হলেও শেষ পর্যন্ত জাহাজ ছাড়ার অনুমতি পাওয়া যায়নি।
সেন্টমার্টিনগামী জাহাজমালিকদের সংগঠন সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, সরকারি সব সংস্থার অনুমোদন পাওয়ার পর কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের সম্মতির জন্য বুধবার সারাদিন চেষ্টা করা হয়। তবে সন্ধ্যা পর্যন্ত সম্মতি মেলেনি। সে কারণেই বৃহস্পতিবার থেকে তিনটি জাহাজ চালু করা সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, যেসব পর্যটক ইতিমধ্যে টিকিট কিনেছেন, জাহাজ চালু হলে তারা ভ্রমণের সুযোগ পাবেন। বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসনের সবুজ সংকেত মিললে শুক্রবার থেকে জাহাজ চলাচল শুরু করা যাবে বলে তিনি আশা করছেন।
এ বিষয়ে কথা বলতে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
তবে জেলা প্রশাসনের একটি সূত্র জানিয়েছে, সেন্টমার্টিনে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে একটি সমন্বয় সভা করা হবে। সেই সভায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে সভাটি কবে বা কখন হবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
এদিকে নৌপরিবহন অধিদপ্তর ও পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন পেয়েছে এমভি বার আউলিয়া, এমভি কর্ণফুলী ও এমভি টেকনাফ নামের তিনটি জাহাজ। তিনটি জাহাজে মোট ২ হাজার ২৯৮ জন যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা রয়েছে। এর মধ্যে এমভি বার আউলিয়ার ধারণক্ষমতা ৮৫০ জন, এমভি কর্ণফুলীর ৭৩২ জন এবং এমভি টেকনাফের ৭১৬ জন।


