মানবাধিকার লঙ্ঘন প্রতিরোধ ও ভুক্তভোগীদের শনাক্ত করতে নবগঠিত পার্লামেন্টারি ককাস অন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিসের কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে ককাসের প্রথম বৈঠকে তিনি এ আহ্বান জানান।
কায়সার কামাল বলেন, অতীতে যারা মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছেন এবং যারা এর শিকার হয়েছেন, তাদের শনাক্ত করে একটি গ্রহণযোগ্য চিত্র তুলে ধরতে হবে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, সে লক্ষ্যেই এই ককাস গঠন করা হয়েছে।
মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীরা যাতে ভুক্তভোগী সাজার চেষ্টা না করেন, সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানান তিনি।
ডেপুটি স্পিকার বলেন, বাংলাদেশে এর আগে এ ধরনের সংসদীয় ককাস গঠিত হয়নি। এটিকে কার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে সবাইকে দলগতভাবে কাজ করতে হবে। এ জন্য আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সহযোগিতা প্রয়োজন।
ককাসের কর্মপরিধি বাড়ানোর বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা দেশি-বিদেশি সংগঠন, সংস্থা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো এবং সভা-সেমিনার ও গবেষণাকাজে ককাসের সদস্যদের সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেন সভাপতি ও সদস্যরা।
তারা আশা প্রকাশ করেন, পরবর্তী প্রজন্মের জন্য স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক সরকার এবং নিরপেক্ষ বিচারব্যবস্থা নিশ্চিত করতে এই ককাস ভূমিকা রাখবে।
ককাসের সভাপতি ফাহিমা নাসরিনের সভাপতিত্বে বৈঠকে সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী, সাঈদ আল নোমান, মীর আহমাদ বিন কাসেম, মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান, মো. আবুল হাসনাত, জহরত আদিব চৌধুরী, সানজিদা ইসলাম ও আন্না মিনজ উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকের শুরুতে গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। বৈঠকে জাতীয় সংসদ সচিবালয় এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।


