থার্ড টার্মিনাল চালু হলে ১ ও ২ নম্বর টার্মিনাল বন্ধ রাখা হলেও কোনো সমস্যা হবে না বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
তিনি জানান, বিদ্যমান ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে নতুন বিমানবন্দর তৈরির কোনো প্রয়োজন নেই। কারণ, একটি বিমানবন্দর নির্মাণে ১০ থেকে ১২ বছর এবং তা পুরোপুরি চালু করতে প্রায় ১৫ বছর লেগে যায়।
বুধবার সন্ধ্যায় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ২ নম্বর টার্মিনাল পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
বিমানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা জাপানের দেওয়া শর্ত মেনে নিয়েছি। থার্ড টার্মিনাল চালুর পর ১ ও ২ নম্বর টার্মিনাল থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচল না করলেও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটগুলো এখানে স্থানান্তর করা হবে। এ ছাড়া কার্গো, চার্টার্ড ও ভিভিআইপি ফ্লাইট চলাচল অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি নতুন বাজেট এয়ারলাইন্স চালুর পরিকল্পনা চলছে, সেগুলোও এখান থেকে পরিচালিত হবে। ফলে এই দুই টার্মিনাল বন্ধ হলেও সার্বিক কার্যক্রমে কোনো ব্যাঘাত ঘটবে না।’
প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানের ত্রুটি প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ভিভিআইপি ফ্লাইটে সবার নজর বেশি থাকা স্বাভাবিক। তবে টেকনিক্যাল ত্রুটি হতেই পারে। ঢাকা থেকে ফ্লাইটটি স্বাভাবিকভাবেই রওনা হয়েছিল। কিন্তু জাপান থেকে ফেরার পথে বিমানে ফ্লাপ সংক্রান্ত সমস্যা দেখা দেয়।
তিনি আরও স্পষ্ট করেন, ‘আমাদের সঙ্গে অতিরিক্ত পাইলট ও প্রকৌশলী ছিলেন। সব ধরনের নিরাপত্তা ও নিয়ম মেনে অভিযান পরিচালিত হয়েছে। ত্রুটি সারাত সময় লাগলেও টানা তিনবার ট্রায়াল রান দেওয়ার পরই কেবল প্রধানমন্ত্রীকে বিমানে তুলে নেওয়া হয়। তাই তার নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কোনো কারণ ছিল না।’
তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তদন্ত রিপোর্ট আমাদের হাতে এসেছে। সেখানে প্রকৃত চিত্রই উঠে এসেছে। জাপান থেকে ফেরার সময় আমাদের প্রকৌশলীই প্রথম বিষয়টি লক্ষ্য করেন ও আপত্তি জানান। ভবিষ্যতে বহরে আরও নতুন বিমান যুক্ত হতে যাচ্ছে, তাই আমরা বিমান সুরক্ষায় সর্বোচ্চ সচেতন।’
বিমানবন্দরে লাগেজ হ্যান্ডেলিং পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানান, যাত্রীসেবার মান আগের চেয়ে অনেক উন্নত হয়েছে। যাত্রীদের রেসপন্স অত্যন্ত ইতিবাচক এবং বর্তমানে ২০ মিনিটের মধ্যেই অধিকাংশ যাত্রী নিজ নিজ লাগেজ পেয়ে যাচ্ছেন।


