একই জামিন নামঞ্জুরের আদেশের বিরুদ্ধে তথ্য গোপন করে তিনটি পৃথক আবেদন দায়েরের ঘটনায় তিন আইনজীবীকে ১৫ দিনের জন্য আইন পেশা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
রাজধানীর মুগদা থানার সাইফুল হত্যা মামলার পাঁচ আসামির জামিন আবেদন ঘিরে এ নির্দেশ দেওয়া হয়।
একই ঘটনায় পাঁচ আসামি, তিন আইনজীবী ও তিন তদবিরকারকসহ মোট ১১ জনকে শোকজ করেছেন আদালত। তাদের ১৫ দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পাঁচ আসামি কোনো আদালতে জামিনের আবেদন করতে পারবেন না বলেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শোকজ পাওয়া তিন আইনজীবী হলেন আন্না খানম, এস এম আব্দুল বাতেন সাকিল ও রহিম উদ্দিন।
বুধবার বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এসব আদেশ দেন। সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ইমদাদুল হানিফ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, গত ১ নভেম্বর একটি মামলার শুনানির সময় আদালতের নজরে আসে, একই জামিন নামঞ্জুরের আদেশের বিরুদ্ধে তিনটি পৃথক আবেদন করা হয়েছে। আবেদনগুলো বিভিন্ন আদালতের কার্যতালিকায় ছিল। পরে আদালত সেগুলো একত্র করে শুনানির উদ্যোগ নেন।
শুনানিতে দেখা যায়, পাঁচ আসামির জামিন চেয়ে করা তিনটি আবেদনের ভিত্তি একই আদেশ। তবে আবেদনগুলো দায়ের করেছেন তিনজন পৃথক আইনজীবী।
ইমদাদুল হানিফ বলেন, একই আদেশের বিরুদ্ধে একাধিক আবেদন করার সুযোগ নেই। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করেছেন। ১১ জনকে ১৫ দিনের মধ্যে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পাঁচ আসামির পক্ষে কোনো আদালতে জামিনের আবেদন করা যাবে না। একই সঙ্গে তিন আইনজীবীকে ১৫ দিন হাইকোর্ট বিভাগে আইন পেশা পরিচালনা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে আইনজীবী আন্না খানম টাইমসকে বলেন, গত ১ অক্টোবর তিনি মামলা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। মামলার নথিও ক্লায়েন্টকে বুঝিয়ে দিয়েছেন। এ ঘটনায় তার কোনো দায় নেই বলে দাবি করেন তিনি।


