চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ক রিটের রুল শুনবে হাইকোর্ট

চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ক রিটের রুল শুনবে হাইকোর্ট
ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা বর্জ্য পরিশোধনের জন্য নিজস্বভাবে অথবা কেন্দ্রীয়ভাবে পরিশোধনাগার স্থাপনের নির্দেশনা চেয়ে করা দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে জারি হওয়া রুল শুনানি শুনানির জন্য নির্ধারণ করেছে হাইকোর্ট। বিচারপতি মো. খসরুজ্জামান এবং বিচারপতি মুবিনা আসাফের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানি হবে।

রিটের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেবেন আইনজীবী সৈয়দ মহিদুল কবির। তিনি মঙ্গলবার টাইমসকে জানান, আদালত ২ নভেম্বর রুল শুনানির জন্য ধার্য করে। এখন রিট কার্যতালিকায় উঠলে রুল শুনানি হবে।

২০১৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি একটি ইংরেজি দৈনিকে ‘হ্যাজারডাস ওয়েস্ট হিপড ইন ওপেন বিনস’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে উন্মুক্ত স্থানে চিকিৎসাবর্জ্য ফেলে রাখার কারণে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাবের বিষয়টি তুলে ধরা হয়।

প্রতিবেদনটির পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে ওই বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আইনি নোটিশ পাঠান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট, সাংবাদিক আহমেদ আল আমীন। নোটিশের জবাব না পেয়ে ওই বছরের ১৯ মার্চ হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় তিনি রিট করেন।

রিটে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বাস্থ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপপরিচালক এবং বাংলাদেশ প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক মালিক সমিতির মহাসচিবকে বিবাদী করা হয়।

আরও পড়ুন

প্রাথমিক শুনানি শেষে ২০১৮ সালের ৮ এপ্রিল বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী এবং বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ অন্তর্বর্তীকালীন আদেশসহ রুল জারি করে।

রুলে হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ সব ধরনের চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানে বর্জ্য অপসারণ ও পুনর্ব্যবহারের জন্য পৃথকভাবে অথবা কেন্দ্রীয়ভাবে বর্জ্য পরিশোধনাগার (ইটিপি) স্থাপনের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। একই সঙ্গে চিকিৎসাবর্জ্য অপসারণ, পুনর্ব্যবহার ও পরিবহনের ক্ষেত্রে পরিবেশ সুরক্ষা এবং নাগরিকদের স্বাস্থ্য ও প্রকৃতি রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তাও জানতে চায় আদালত।

রিটে বলা হয়, চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকের সামনে উন্মুক্ত স্থানে স্তূপ করে চিকিৎসাবর্জ্য ফেলা হচ্ছে। অধিকাংশ চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠান পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আবেদনকারীর মতে, এতে সারা দেশের চিকিৎসাবর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুরবস্থার চিত্রও প্রতিফলিত হয়।

রিটে আরও বলা হয়, পরিবেশ আইন এবং চিকিৎসাবর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০০৮ যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না। হাসপাতালের বর্জ্য সাধারণ গৃহস্থালি বর্জ্যের সঙ্গে মিশে পরিবেশ দূষণ করছে। বড় হাসপাতাল ও বেসরকারি ক্লিনিকগুলোর অনেকেরই বর্জ্য পরিশোধনাগার নেই। এতে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে বলে রিটে উল্লেখ করা হয়। সম্প্রতি বিচারপতি মো. খসরুজ্জামানের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে রুল শুনানির উদ্যোগ নেওয়া হয়।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad