জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কারফিউ জারির পেছনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের ভূমিকা ছিল বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মিরপুর জোনের সমন্বয়ক এসএম সায়েম।
মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ জবানবন্দি দেওয়ার সময় প্রসিকিউশনের ১৩তম সাক্ষী এ অভিযোগ করেন। এ সময় আনিসুল হক ও সালমান এফ রহমান কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী সায়েম বলেন, জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, আন্দোলনে সরকারের বিভিন্ন বাহিনীর হামলায় ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। তবে আমাদের জানা মতে নিহতের সংখ্যা ২ হাজারের বেশি। আহত হয়েছেন ২৫ হাজারের বেশি মানুষ। তাদের মধ্যে প্রায় ৪ হাজার মানুষ হাত, পা বা চোখ হারিয়ে স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন।
আন্দোলনের সময় কয়েকজন আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেওয়ার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে সায়েম বলেন, তাদের মধ্যে কয়েকজন পরে মারা যান। একজনের পেটে গুলি লেগে নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে গিয়েছিল, আরেকজনের মাথায় গুলি লেগে মস্তিষ্ক বেরিয়ে ঝুলছিল। গুলিতে একজনের চোখও নষ্ট হয়ে যায়। তার অভিযোগ, শেখ হাসিনার নির্দেশে হেলিকপ্টার ব্যবহার করেও আন্দোলনকারীদের হত্যা করা হয়েছিল।
সায়েমের ভাষ্য, আন্দোলনে হত্যাকাণ্ডের অন্যতম কারণ ছিল কারফিউ জারি। কারফিউ না দিলে এত হত্যাকাণ্ড নাও ঘটতে পারত বলে মনে করেন তিনি।
তার অভিযোগ, কারফিউ জারির মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন সালমান এফ রহমান ও তৎকালীন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। আর ইন্টারনেট বন্ধের পরিকল্পনায় ছিলেন তৎকালীন তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। সালমান এফ রহমান তাকে এ কাজে উৎসাহ দিয়েছিলেন বলেও জবানবন্দিতে দাবি করেন সায়েম।
নিজের ওপর হামলার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, আন্দোলন চলাকালে আমাকে আটক করতে কয়েক দফা আমার বাড়িতে হামলা চালানো হয়। বাসার একটি দেয়াল গুলি করে ঝাঁঝরা করে দেওয়া হয়েছিল। যেখানে পাওয়া যাবে, সেখানেই আমাকে হত্যা করা হবে বলে হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। ওই স্মৃতি এখনো তাড়া করে বেড়ায় বলে ট্রাইব্যুনালকে জানান তিনি।


