নীলফামারীর ডোমারে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডে টাইমস অব বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ সহ-সম্পাদক রাবেল আহমেদের বসতঘরসহ সাতটি ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ডোমার সদর ইউনিয়নের মাঝাপাড়া (বড়মিয়া পাড়া) এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও আসবাবপত্রসহ প্রায় ২৫ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিস ও বিদ্যুৎ অফিসের চরম উদাসীনতা ও গাফিলতিতে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।
ভস্মীভূত ঘরগুলো ওই এলাকার মৃত কামরুল হুদার ছেলে রাবেল আহমেদ (সাংবাদিক) ও মো. রুবেল, নুরুল হুদার ছেলে লিটন ও লিজু এবং সামছুল হুদার ছেলে জুয়েলের বলে জানা গেছে। ক্ষতিগ্রস্তরা চাচাতো ভাই।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগীদের সূত্রে জানা গেছে, মাগরিবের আজানের পরপরই একটি ঘরে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং একের পর এক বসতঘরে আগুন ধরে যায়।
তাৎক্ষণিকভাবে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হলেও তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে প্রায় এক ঘণ্টা দেরি করে। ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি আসার পর মেশিন চালু করতেই আরও আধঘণ্টা সময় পার হয়ে যায়।
অন্যদিকে, বিদ্যুৎ অফিসে বারবার যোগাযোগ করা হলেও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে তারা প্রায় আধঘণ্টা দেরি করে বলে অভিযোগ ওঠে।
ক্ষতিগ্রস্ত রুনা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ফায়ার সার্ভিস যখন আসে তখন কেবল একটি ঘরে আগুন জ্বলছিল। কিন্তু তাদের মেশিন চালু করতে দেরি হওয়ায় চোখের পলকে আমাদের বাকি সব ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেল। তাদের গাফিলতির কারণেই আজ আমরা নিঃস্ব।’
পরিবারের সদস্যদের বরাতে সাংবাদিক রাবেল আহমেদ বলেন, ‘ঘরে থাকা সোনা-গহনা, জমির দলিলসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আসবাবপত্র পুড়ে গেছে। এতে ২৫ লাখ টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস যদি সময়মতো কাজ শুরু করতে পারত, তবে আমাদের এতটা ক্ষতি হতো না।’
অগ্নিকাণ্ডের আগুনে নিজের বাইসাইকেল ও জামাকাপড় পুড়ে যাওয়ায় কান্নায় ভেঙে পড়ে শিশু লামিশা।
সাজেদুল ইসলাম নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন, ‘ডোমার ফায়ার সার্ভিসের এমন উদাসীনতা এবারই প্রথম নয়। এর আগেও অন্য একটি জায়গায় আগুন নেভাতে গিয়ে তাদের মেশিন নষ্ট ও চালুর সমস্যায় পড়তে হয়েছিল। তাদের এই দায়িত্বজ্ঞানহীনতার কারণে বারবার মানুষকে সর্বস্বান্ত হতে হচ্ছে।’
তবে উদাসীনতা ও মেশিন চালুর বিলম্বের বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন ডোমার ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মুক্তি মাহমুদ।
তিনি জানান, ‘রাস্তা খারাপ থাকার কারণে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে, তবে তা সামান্য সময়। খবর পাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে।’


