কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে পাঠদান বন্ধ রেখে কলেজ মাঠে পশুর হাট বসানোর অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার চৌরঙ্গী মহাবিদ্যালয় মাঠে সপ্তাহে দুই দিন হাট বসায় বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী। এতে একদিকে যেমন বিঘ্নিত হচ্ছে পড়ালেখা, অন্যদিকে খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে যুবসমাজ।
মঙ্গলবার দুপুর, ঘড়িতে তখন ১টা। নিয়ম অনুযায়ী সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত কলেজ খোলা ও পাঠদান চলার কথা। কিন্তু সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, কলেজ ভবনের কক্ষগুলোতে তালা ঝুলছে। ভবন ঘেঁষে পোতা রয়েছে অসংখ্য বাঁশের খুঁটি, যাতে বাঁধা রয়েছে ছোট-বড় গরু-ছাগল। বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ক্রেতা-বিক্রেতারা ব্যস্ত কেনাবেচায়।
এ বিষয়ে চৌরঙ্গী মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ লাল মোহাম্মদ জানান, প্রতি রোববার পেঁয়াজের হাট এবং মঙ্গলবার পশুর হাট বসে। তার দাবি, রোববারের পরিবর্তে শনিবার কলেজ খোলা রাখা হয় এবং মঙ্গলবার দুপুর ১টা পর্যন্ত কলেজ চলে। তিনি আরও বলেন, ‘মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত কলেজ চলার কথা থাকলেও হাটের জন্য তা সম্ভব হচ্ছে না। আপনারা ব্যবস্থা নেন।’
অন্যদিকে, হাটের সাধারণ সম্পাদক আলম বিশ্বাস বলেন, ‘দুপুর ১টার পর এমনিতেই কলেজ চলে না। হাটের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আবেদন করা হয়েছে। এছাড়া হাটের জন্য কলেজের পাশেই নতুন জমি প্রস্তুত করা হচ্ছে, খুব দ্রুতই মাঠ থেকে হাট সরিয়ে নেওয়া হবে।’
২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত চৌরঙ্গী মহাবিদ্যালয়ে বর্তমানে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি মিলিয়ে শিক্ষার্থী মাত্র ৯৮ জন। বিপরীতে শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় ৩০ জন। স্থানীয়দের আবেদনের প্রেক্ষিতে গত কোরবানির ঈদ উপলক্ষে প্রশাসন তিন মাসের জন্য অস্থায়ী পশুহাটের অনুমোদন দিয়েছিল। গত ৩ আগস্ট সেই মেয়াদের মেয়াদ শেষ হলেও এখনো কলেজ মাঠেই হাট চলছে।
স্থানীয় যুবক জীবন বলেন, ‘আগে বিকালে মাঠে নিয়মিত ফুটবল-ক্রিকেট খেলা হতো। কিন্তু গত প্রায় সাত মাস ধরে মাঠে গরুর হাট বসায় খেলাধুলা সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।’
শিক্ষার্থীরাও অভিযোগ করে জানায়, ভবনের পাশেই হাটের খুঁটি থাকায় হাটের দিনগুলোতে ঠিকমতো পড়াশোনা করা যায় না।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নাজমুল হক জানান, বিকাল ৪টার আগে কলেজ বন্ধ রাখার কোনো সরকারি নিয়ম নেই। এটি গুরুতর অপরাধ। লিখিত অভিযোগ পেলে বা সরেজমিনে প্রমাণ মিললে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাইসুল ইসলাম জানান, তিনি সরেজমিনে পরিস্থিতি দেখে এসেছেন। সবার বক্তব্যও শুনেছেন। হাট কর্তৃপক্ষ কাগজপত্র নিয়ে ইউএনও অফিসে আসার কথা জানিয়েছে।
নিয়মের ব্যত্যয় ঘটে থাকলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান রাইসুল ইসলাম।


