চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সড়ক দুর্ঘটনায় আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) এক শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও রেললাইন অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কুমিরা এলাকার ডালাস পেট্রোল পাম্পের বিপরীত পাশে লরির ধাক্কায় বাস উল্টে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী মাইশা মুশফিরাত (২১) নিহত হন। আহত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থীসহ দুজন।
দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা পাঁচ দফা দাবি জানিয়ে সড়ক ও রেললাইন অবরোধ করেন। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লরির চালক ও মালিককে গ্রেপ্তার করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া, কেডিএস ডিপোর অবৈধ পার্কিং বন্ধ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস গেটের দুই পাশে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ, নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং সড়ক পারাপারে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ক্যাম্পাসের সামনে সড়ক পারাপারে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা না থাকায় তাদের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। কেডিএস ডিপোর অবৈধ পার্কিং বন্ধ না হওয়ায় সড়কে চলাচল আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এদিকে, অবরোধের কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। রেললাইনেও গাছের গুঁড়ি ফেলে রাখেন শিক্ষার্থীরা। এতে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়।
নিহত মাইশা মুশফিরাত চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নের বটকাটিয়া এলাকার বাসিন্দা। তার বাবা সাখাওয়াত হোসেন এবং মা সালমা আক্তার।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী পরিচালক মোস্তাক খন্দকার বলেন, ক্লাস শেষে বাসায় যাওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীসহ মোট তিনজন সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় একটি লরি ৮ নম্বর বাসকে ধাক্কা দেয়। ধাক্কায় বাসটি উল্টে শিক্ষার্থীদের ওপর পড়ে। এতে গুরুতর আহত হন মাইশা। পরে তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি আরও বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আলী আজাদী ও উপ-উপাচার্য হাসমত আলী চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছুটে যান।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকালে সীতাকুণ্ড থানাধীন আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে সড়ক পারাপারের সময় দুর্ঘটনায় আহত হন মাইশা। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
দুর্ঘটনায় আহত বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী রাজিয়া সুলতানাকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া বহিরাগত আরও একজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।


