পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে শেকৃবি শিক্ষার্থীদের অস্থায়ী স্থাপনা ভাঙচুর

পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে শেকৃবি শিক্ষার্থীদের অস্থায়ী স্থাপনা ভাঙচুর
পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে নির্মিত অস্থায়ী স্থাপনা ভাঙছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ছবি: জান্নাতুল ফেরদাউস/ টাইমস
Advertisement
Advertisement

রাজধানীর পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে নির্মিত অস্থায়ী স্থাপনা ও স্টল ভাঙচুর করেছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আনা দুটি ট্রাক্টর ব্যবহার করে এসব স্থাপনা ভাঙেন তারা। মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

শেরেবাংলা নগরের এই মাঠে এশিয়া আন্তর্জাতিক মেলার জন্য অস্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছিল। শিক্ষার্থীরা বলছেন, মাঠটিতে সচিবালয় স্থাপন করতে দেওয়া হবে না। এ ছাড়া কোনো ধরনের মেলার কার্যক্রমও মাঠে পরিচালনা করা যাবে না। মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাকাজে ব্যবহারের জন্য ফিরিয়ে দিতে হবে।

সোমবার দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী মাঠে নেমে ভাঙচুর শুরু করেন।

শিক্ষার্থীদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব মাঠটি তাদের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে। খেলাধুলা, গবেষণা ও অন্যান্য শিক্ষা কার্যক্রমের জন্য মাঠটি উন্মুক্ত রাখতে হবে। সেখানে কোনো ধরনের বাণিজ্য মেলা কিংবা স্থায়ী বা অস্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠটি আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে ছিল। তাই মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে দিয়ে সেখানে কৃষি গবেষণার জন্য ইনস্টিটিউট বা গবেষণাকেন্দ্র গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে মাঠে বাংলাদেশ সচিবালয় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত বাতিল, বাণিজ্য মেলা ও অন্যান্য বাণিজ্যিক আয়োজন বন্ধ এবং ভবিষ্যতে সেখানে কোনো স্থাপনা নির্মাণ না করার নিশ্চয়তা চান তাঁরা।

আরও পড়ুন

ছবি: জান্নাতুল ফেরদাউস/ টাইমস

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বৈঠকে মেলার স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার জন্য ১২ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এ কারণে তারা নিজেরাই মেলার স্টল ও অস্থায়ী স্থাপনাগুলো ভাঙচুর শুরু করেছেন।

এর আগে, গত ২৭ অক্টোবর মাঠে সচিবালয় স্থানান্তরের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে মাটির গুণাগুণ পরীক্ষার কাজ চলার সময় বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় মাটি পরীক্ষার কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ও দুটি গাড়ি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে নিয়ে যান তাঁরা। পরদিন ২৮ অক্টোবর মেলার প্রধান প্রবেশপথসহ কয়েকটি অস্থায়ী স্থাপনা ভাঙচুর করেন শিক্ষার্থীরা।

মাঠ পুনরুদ্ধারের দাবিতে এর আগেও কয়েক দফায় সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন তারা। গতকাল রোববার চীন মৈত্রী সিগন্যাল এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। এতে ওই এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়।

শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠ ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক তাজুল ইসলাম এর আগে জানিয়েছিলেন, শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে প্রশাসনিকভাবে উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে ভাঙচুরের মতো ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad