চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব অধ্যাপক কাজী দেলোয়ার হোসেনকে দেওয়ার প্রতিবাদে আগামীকাল সোমবার একদিনের সর্বাত্মক একাডেমিক শাটডাউন ঘোষণা করেছেন শিক্ষার্থীরা। এদিন সব ক্লাস, পরীক্ষা ও রুটিন দায়িত্বের ভিত্তিতে পরিচালিত প্রশাসনিক কার্যক্রম বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
রোববার শিক্ষার্থীদের দেওয়া এক বিবৃতিতে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
এর আগে উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সভায় অংশ নিতে ঢাকায় অবস্থান করায় তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক কাজী দেলোয়ার হোসেনকে রুটিন দায়িত্ব দেওয়া হয়। রোববার ই-মেইলে জানানো হয়, ১ নভেম্বর বিকাল থেকে ২ নভেম্বর সন্ধ্যায় উপাচার্য কর্মস্থলে ফেরা পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করবেন।
শিক্ষার্থীরা বিবৃতিতে জানান, দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও অচলাবস্থার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরিবেশ ও নিজেদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে তারা ক্লাস-পরীক্ষায় ফিরেছিলেন। তবে তাদের শর্ত ছিল, নবনিযুক্ত উপাচার্য ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক কার্যক্রমে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তাদের অবস্থান উপেক্ষা করে অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেনকে রুটিন দায়িত্ব দেওয়ার মাধ্যমে পরোক্ষভাবে ক্যাম্পাসে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ সিদ্ধান্ত তারা প্রত্যাখ্যান করছেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এ ধরনের পদক্ষেপ ক্যাম্পাসের বিদ্যমান পরিস্থিতিকে পুনরায় অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। পরিস্থিতির অবনতির দায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকেই নিতে হবে। শিক্ষার্থীদের দাবি ও অবস্থানের ব্যত্যয় ঘটলে কিংবা প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ অব্যাহত থাকলে তারা আরও কঠোর শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন।
উল্লেখ্য, ৩৬ দিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে রোববার থেকে চুয়েটে নিয়মিত ক্লাস শুরু হয়েছে। এর আগে গত ২৮ অক্টোবর নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগে পরীক্ষামূলকভাবে ক্লাস শুরু হয়। তবে উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমের পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, অধ্যাপক সায়েমের পুনর্বহালই তাদের একমাত্র দাবি।


