রাজধানীতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে এভেরোজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল লালমাটিয়ার চতুর্থ হিফজ ও ও/এ লেভেল সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে কোরআনের হিফজ সম্পন্ন করা ৫৪ শিক্ষার্থীকে পূর্ণ হাফেজ হিসেবে এবং ও-লেভেল ও এ-লেভেল সম্পন্ন করা ৮৫ শিক্ষার্থীকে গ্র্যাজুয়েট হিসেবে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
শনিবার রাজধানীর সেনাপ্রাঙ্গণ কনভেনশন হলের অডিটোরিয়ামে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত এ সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষার্থীদের অর্জনের স্বীকৃতি দেওয়া এবং অন্যদের অনুপ্রাণিত করাই ছিল এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। সভাপতিত্ব করেন এভেরোজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল লালমাটিয়ার প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক খান মো. আক্তারুজ্জামান।
সভাপতির বক্তব্যে খান মো. আক্তারুজ্জামান বলেন, ২০১৫ সালের অক্টোবরে এভেরোজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল লালমাটিয়ার যাত্রা শুরু হয়। দীর্ঘ পথচলায় নানা বাধা, ত্যাগ ও প্রতিকূলতা পেরিয়ে প্রতিষ্ঠানটি কোরআনের শিক্ষা, আধুনিক জ্ঞান, একাডেমিক উৎকর্ষ এবং নৈতিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, শিক্ষকদের নিরলস প্রচেষ্টা এবং অভিভাবকদের আস্থা ও সহযোগিতায় এভেরোজ লালমাটিয়া বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করেছে। কোরআনের শিক্ষা ও আন্তর্জাতিক মানের ইংরেজি শিক্ষার সমন্বয়ে প্রতিষ্ঠানটি দেশে একটি স্বতন্ত্র শিক্ষাধারা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখছে। তাদের অনুসরণে দেশে প্রায় ২৫০টি ইসলামিক ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে তারা জানতে পেরেছেন।
ইসলামিক ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার মান ও সেবার উৎকর্ষকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। মিথ্যা তথ্য, চটকদার বিজ্ঞাপন কিংবা বাস্তবায়ন-অসম্ভব প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে অভিভাবকদের বিভ্রান্ত করা উচিত নয়। শিক্ষা কোনো পণ্য নয়, শিশুদের ভবিষ্যৎ প্রচারণার বিষয় নয়; শিক্ষা একটি আমানত।
প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক সাফল্য তুলে ধরে খান মো. আক্তারুজ্জামান বলেন, ২০১৯ সাল থেকে এভেরোজের ও-লেভেল ও এ-লেভেলের শিক্ষার্থীরা ধারাবাহিকভাবে ভালো ফলাফল করছে। ওয়ার্ল্ড হাইয়েস্ট ও কান্ট্রি হাইয়েস্টসহ বিভিন্ন অর্জন প্রতিষ্ঠানকে গর্বিত করেছে। শিক্ষার্থীদের প্রতিভা বিকাশ এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরতে গত জানুয়ারি থেকে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে আসনসংখ্যা সীমিত থাকায় প্রায় এক হাজার আবেদনের বিপরীতে ৪০০ শিক্ষার্থীকে ভর্তি করা সম্ভব হয়েছে। শিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে আফতাবনগরসংলগ্ন বনশ্রীতে নতুন শাখা প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি লালমাটিয়ায় নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েও কাজ চলছে।
অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের প্রধান উপদেষ্টা মো. আতাউর রহমান মিয়াজী বলেন, হিফজুল কোরআন, ইসলামিক স্টাডিজ, ইংরেজি মাধ্যমের ও-লেভেল ও এ-লেভেল শিক্ষার পাশাপাশি আরবি ভাষা শিক্ষার সমন্বয়ে এভেরোজ যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা ইসলামী ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে অনন্য ভূমিকা রাখছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, খুব শিগগির এভেরোজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজকে কেন্দ্র করে ‘এভেরোজ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ বাস্তবায়িত হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন এভেরোজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল লালমাটিয়ার ভাইস চেয়ারম্যান সাজেদা আক্তার, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. আতাউর রহমান মিয়াজী, হুফফাজুল কুরআন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আব্দুল হক এবং সোবহানবাগ জামে মসজিদ কমপ্লেক্সের খতিব শাহ ওয়ালিউল্লাহ।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন পিয়ারসন এডেক্সেলের বাংলাদেশ ও নেপালের আঞ্চলিক ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার আব্দুল্লাহ আল মামুন, ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্টের বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড সারোয়ার রেজা, অক্সফোর্ড এ-কিউ-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর শাহিন রেজা এবং পিয়ারসন এডেক্সেলের বাংলাদেশের আঞ্চলিক ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার জান্নাতুল ফেরদৌস সিগমা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন তিলাওয়াত করা হয়। এরপর ছিল চেয়ারম্যানের উদ্বোধনী বক্তব্য, প্রতিষ্ঠানের থিম সং, আসমাউল হুসনা, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন, হিফজ ও ও/এ লেভেল সমাবর্তন, আরবি ও ইংরেজি নাশিদ, শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত কোরআন তিলাওয়াত, বাংলা গানের ম্যাশআপ এবং বিশেষ নাট্য প্রদর্শনী।
এ ছাড়া শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও প্রতিষ্ঠানের নেতৃবৃন্দকে সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়। অধ্যক্ষের ধন্যবাদ জ্ঞাপন ও সমাপনী দোয়ার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।


