জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচনের কমিশন কার্যালয় সরিয়ে সেখানে শিক্ষক সমিতির কার্যালয় স্থাপনের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ।
সংগঠনটি এ সিদ্ধান্তকে হঠকারী ও শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকারবিরোধী আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।
শনিবার প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে সই করেন সংগঠনটির সংসদের দপ্তর সম্পাদক রেজওয়ান সিকদার।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাকসুর মেয়াদ শেষ হওয়ার দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও পরবর্তী নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেয়নি। বরং নতুন প্রশাসনের অধীনে নির্বাচন কমিশন কার্যালয় সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তে নির্বাচন আয়োজনের প্রক্রিয়া আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। অথচ দায়িত্ব গ্রহণের পর নতুন প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত রোডম্যাপ ঘোষণা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল।
ছাত্র ইউনিয়নের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে প্রশাসন শিক্ষার্থীদের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসেছে।
সংগঠনটির মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করার শামিল এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, গত তিন দশকের অচলাবস্থা কাটিয়ে অনুষ্ঠিত জাকসুর সর্বশেষ নির্বাচনেও প্রশাসনিক কাঠামোগত দুর্বলতা ও সমন্বয়হীনতার কারণে বিভিন্ন জটিলতা তৈরি হয়েছিল। এসব সীমাবদ্ধতা দূর করে নির্বাচনব্যবস্থাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার পরিবর্তে বর্তমান প্রশাসন জাকসুর কার্যক্রমকে আরও বাধাগ্রস্ত করছে বলে মনে করে সংগঠনটি।
ছাত্র ইউনিয়নের নেতারা বলেন, নির্বাচন কমিশন কার্যালয় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত প্রশাসনের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে অবিলম্বে এ সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে। একই সঙ্গে কমিশন কার্যালয় আগের অবস্থানে বহাল রাখা এবং ১১তম জাকসু নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ও তফসিল ঘোষণা করতে হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের দাবি উপেক্ষা করে প্রশাসন একতরফাভাবে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিলে তা মেনে নেওয়া হবে না। দাবি বাস্তবায়ন না হলে বিশ্ববিদ্যালয়ে গণতান্ত্রিক পরিবেশ রক্ষা ও শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় ছাত্র ইউনিয়ন কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলবে।


