গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি ও ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণের দাবিতে চলমান আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়েছে জাতীয় মানবাধিকার পরিষদ। একই সঙ্গে আন্দোলন ঘিরে সহিংসতা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
বুধবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জাতীয় মানবাধিকার পরিষদ জানায়, দেশের বিভিন্ন স্থানে কয়েক দিন ধরে গার্মেন্টস শ্রমিকদের আন্দোলন, সংঘর্ষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন।
বিবৃতিতে শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিগুলো আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট মালিকপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে শ্রমিকদের যৌক্তিক আন্দোলনে পূর্ণ সমর্থন থাকার কথা জানায় পরিষদ।
তবে আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করছে বলে অভিযোগ করেছে সংগঠনটি। ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, সড়ক অবরোধ ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টির মতো কর্মকাণ্ড শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের নামে বাহিনীর কোনো সদস্যের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, অসংযত আচরণ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাও গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানিয়েছে পরিষদ।
বিবৃতিতে বলা হয়, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব। তবে কোনো পরিস্থিতিতেই অপ্রয়োজনীয় বলপ্রয়োগ, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা অমানবিক আচরণ করা যাবে না। বিশেষ করে নারী শ্রমিকসহ সাধারণ শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও আইনগত দায়িত্ব।
জাতীয় মানবাধিকার পরিষদের মতে, শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, শিল্পকারখানার নিরাপত্তা, জননিরাপত্তা ও মানবাধিকার একে অপরের পরিপূরক। শ্রমিকদের আন্দোলন শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক হওয়া প্রয়োজন। একইভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও আইন মেনে সংযত ও মানবিক আচরণ করতে হবে।
বিবৃতিতে সরকার, শ্রমিক সংগঠন, মালিকপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন জাতীয় মানবাধিকার পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক কে এস এম মোস্তফা কামাল ও মহাসচিব অ্যাডভোকেট মো. গোলাম কিবরিয়া।


