ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদকে মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর আত্মসমর্পণ করে জামিন নিতে আদালতে হাজির হয়েছেন চিত্রনায়িকা পরীমনি।
বৃহস্পতিবার ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমানের আদালতে তার জামিন আবেদনের শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে গত বুধবার মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য থাকলেও আদালতে হাজির হননি পরীমনি। তার পক্ষে আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে সময়ের আবেদন করেন।
আবেদনে বলা হয়, অ্যালার্জিজনিত কারণে অসুস্থ থাকায় আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি তিনি।
তবে আসামিপক্ষের আবেদনের বিরোধিতা করেন বাদীপক্ষের আইনজীবী আবুল কালাম মোহাম্মদ সোহেল। তিনি পরীমনির জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেন। শুনানিতে তিনি বলেন, পরীমনি ইচ্ছাকৃতভাবে আদালতে হাজির না হয়ে বারবার সময়ের আবেদন করছেন। এতে আদালতের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে।
পরে আদালত পরীমনির সময়ের আবেদন নাকচ করে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। একই সঙ্গে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ২৩ ডিসেম্বর দিন ধার্য করে।
মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে ২০২২ সালের ৬ জুলাই সাভার থানায় পরীমনিসহ দুজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন ঢাকা বোট ক্লাবের পরিচালক ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ। মামলায় পরীমনির সহযোগী জুনায়েদ বোগদাদী জিমিকেও আসামি করা হয়।
২০২৫ সালের ২৬ জুন মামলাটিতে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়। তবে সেদিন আদালতে হাজির না হওয়ায় পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল। পরদিন ২৭ জুন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান তিনি।
মামলার তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ১৮ মার্চ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন ঢাকা জেলা পিবিআইয়ের পরিদর্শক মো. মনির হোসেন। অভিযোগপত্রে বলা হয়, ২০২১ সালের ৮ জুন রাতে ঢাকা বোট ক্লাবে বিনামূল্যে তিন লিটারের ব্লু লেবেল মদের পার্সেল না পেয়ে নাসির উদ্দিনের ওপর ক্ষিপ্ত হন পরীমনি। একপর্যায়ে তার দিকে অ্যাশট্রে ছুড়ে মারলে ডান কানের ওপর মাথায় আঘাত লাগে। এ ছাড়া ক্লাবের বারের ভেতরে ভাঙচুর চালান তিনি।
তদন্ত প্রতিবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়, বারের ভেতরে ভাঙচুরে বাধা দিলে পরীমনির সহযোগী জুনায়েদ বোগদাদী জিমি নাসির উদ্দিনকে কিল-ঘুষি মারেন এবং তাকে ভয়ভীতি দেখান।
২০২১ সালের ৮ জুন রাতে বোট ক্লাবে যাওয়ার পরই পরীমনি ও নাসির উদ্দিনের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত। ঘটনার কয়েক দিন পর সংবাদ সম্মেলন করে পরীমনি অভিযোগ করেন, ওই রাতে বোট ক্লাবে তাকে ধর্ষণ ও হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। এ ঘটনায় ১৩ জুন মামলা করেন তিনি। পরে ওই মামলায় গ্রেপ্তার হন নাসির উদ্দিন। পরে জামিনে মুক্তি পান তিনি।
নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে করা ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার মামলাটির বিচার বর্তমানে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে চলমান রয়েছে।


