ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেতা শাহরিয়ার আলম সাম্য হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার তিন আসামিই ‘প্রকৃত হত্যাকারী’ বলে দাবি করেছে পুলিশ।
ঢাকা মেট্রোপলিটান পুলিশের রমনা জোনের উপকমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম টাইমস অব বাংলাদেশকে জানিয়েছেন, সিসিটিভির ফুটেজ বিশ্লেষণ, প্রত্যক্ষদর্শির বর্ণনা ও রিমান্ডে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে এ বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছে তদন্তকারী দল।

তিন আসামি হলেন—মাদারীপুর সদরের এরশাদ হাওলাদারের ছেলে তামিম হাওলাদার (৩০), কালাম সরদারের ছেলে পলাশ সরদার (৩০) এবং ডাসার থানার যতীন্দ্রনাথ মল্লিকের ছেলে সম্রাট মল্লিক (২৮)।
রোববার সাম্য খুনের মামলায় ‘প্রকৃত হত্যকারী’ গ্রেপ্তারে শাহবাগে অবস্থান নেয় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। একই দাবিতে শনি ও রোববার শাহবাগ থানা ঘেরাও করে সাম্যর বন্ধু ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
ডিসি মাসুদ বলেন, ‘ফার্মগেটের ফুটপাতের হকার ওই তিনজনের সোহারাওয়ার্দী উদ্যানে নিয়মিত মাদকের আড্ডা ছিল। মোটরসাইকেল ধাক্কা লাগার জেরে সাম্যকে ছুরিকাঘাতে খুন করার সময় তাদের সাথে মাদকের আড্ডার আরো “বন্ধু” ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’
সাম্য হত্যার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ওই তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করার দক্ষতা দেখানোয় ডিসি মাসুদ আলমের টিমকে লাখ টাকায় পুরস্কৃত করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী।
ডিসি মাসুদ জানান, সাম্যর বন্ধু রাফি তাদের জানিয়েছিলেন, ছুরিকাঘাতের সময় দুই পক্ষের মারপিটে হত্যাকারীরাও আহত হয়েছিলেন। এর সূত্র ধরে তারা শাহবাগ, ফার্মগেট, গ্রিন রোড এলাকার টহল টিমকে সতর্ক বার্তা পাঠান। এসব এলাকার ক্লিনিকে খোঁজ নিয়ে হত্যার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাত পৌনে ১টার দিকে পান্থপথে শমরিতা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দুই সন্দেহভাজন আসামির সন্ধান দেয় টহল টিম। একজন মাথায় ব্যান্ডেজ নিচ্ছিলেন, আরেকজন এক্সরের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। তাদের গ্রেপ্তারের পর মোবাইল নম্বর ট্র্যাক করে ধরা হয় অপর জনকে।
গত শনিবার ঢাকার মহানগর হাকিম শাহিন রেজা আসামিদের ছয়দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
সাম্য হত্যা মামলায় ১৪ মে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওইদিনই তাদের আদালতের নির্দেশে কারাগারে। পরে তাদের রিমান্ডে আনা হয়।
১৩ মে রাত ১১টার দিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ভেতর দিয়ে মোটরসাইকেল চালিয়ে আসার সময় আরেকটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে ধাক্কা লাগায় কথা কাটাকাটির জেরে দুর্বৃত্তরা সাম্যকে ছুরিকাঘাত করে। রাত ১২টার দিকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত সাম্য ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার এএফ রহমান হল শাখা ছাত্রদলের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ছিলেন তিনি। তার বাড়ি সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া থানা এলাকায়।


