এই কথাগুলো কোনো সাধারণ ব্যক্তি বা দায়িত্বহীন কোনো যোদ্ধার কাছ থেকে আসেনি, বরং এগুলো এসেছে খোদ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে; যিনি বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর প্রধান। ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া একগুচ্ছ পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে এক নজিরবিহীন হুমকি দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ‘মঙ্গলবার হবে বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং সেতু ধ্বংসের দিন… ওই ফ***ইন (গালি) হরমুজ প্রণালি খুলে দাও… না হলে তোমরা নরকের মধ্যে বাস করবে।’ এরপর তিনি বিষয়টিকে আরও উসকে দিয়ে ঘোষণা করেন, ‘রাতে একটি পুরো সভ্যতা ধ্বংস হবে, যা আর কখনো ফিরে আসবে না।’ অত্যন্ত স্বাভাবিক ভঙ্গিতে তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি চাই না এমনটা হোক, কিন্তু সম্ভবত এটা হতে যাচ্ছে।’ এমন…
Author: হুমায়ূন কবীর ভূইয়া
ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের মার্কিন প্রেসিডেন্সি তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির ঠিক বিপরীত এক রূপ নিয়ে বিশ্বমঞ্চে আবির্ভূত হয়েছে। ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ বা আমেরিকাকে সবার আগে রাখার স্লোগান দিয়ে নতুন কোনো যুদ্ধে না জড়ানোর যে অঙ্গীকার তিনি করেছিলেন, বাস্তবে প্রবল সামরিক অভিযান ও কঠোর শুল্কনীতির এক মারমুখী সংমিশ্রণে এর প্রতিফলন ঘটেছে। ট্রাম্পের এই রণকৌশল কেবল বিশ্ববাজারকে অস্থির করেনি, বরং দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সমীকরণ এবং মিত্র দেশগুলোর মধ্যকার আস্থাকেও বড় ধরনের সংকটে ফেলেছে। এই মেয়াদে মার্কিন সামরিক শক্তির সবচেয়ে বিধ্বংসী রূপ দেখা গেছে গত শনিবার ইরান ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে। ২০২৫ সালের জুনে ইরানি সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পর এবারের অভিযানটি ছিল…
“নিউজ রুম চালানোর ২০ বছরের ক্যারিয়ারে এই প্রথম দেখলাম—ভোটের দিন বা ভোটের রাতে ফল প্রচারের সময় কোনো সরকারি সংস্থা থেকে কোনো ফোন আসেনি, কোনো ‘পরামর্শ’ দেওয়া হয়নি, এমনকি সেন্সর করার চেষ্টাও করা হয়নি।” গত ১২ ফেব্রুয়ারি বিএনপি যখন নির্বাচনে জয়ী হয়ে আগামী পাঁচ বছরের জন্য দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেল, সেদিন একজন সিনিয়র সাংবাদিক তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এই কথাগুলো লিখেছিলেন। কথাটা শুনতে খুব সাধারণ মনে হলেও এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস। বাংলাদেশে নির্বাচনের রাত মানেই নিউজ রুমগুলোতে এক ধরনের টানটান উত্তেজনা। সম্পাদকরা বারবার ফোনের দিকে তাকান, প্রযোজকরা ওপরের নির্দেশের অপেক্ষায় থাকেন আর সাংবাদিকরা মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকেন—কখন কোন ‘উপদেশ’ বা হুকুম…
আগামীকাল সেই দিন। বছরের পর বছর ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, অনিশ্চয়তা আর রাজনৈতিক ভাঙাগড়ার পর দেশ এমন একটি নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা ২০০৮ সালের ডিসেম্বরের পর প্রথম সত্যিকারের প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক সংসদীয় নির্বাচন হতে যাচ্ছে বলে প্রত্যাশা করছেন অনেকে। বিতর্কিত নির্বাচন আর গণতন্ত্রের পশ্চাদপসরণে ক্ষতবিক্ষত একটি দেশের জন্য এই ত্রয়োদশ সংসদীয় নির্বাচনকে দেখা হচ্ছে চূড়ান্ত অগ্নিপরীক্ষা হিসেবে। বিশাল ত্যাগের বিনিময়ে এসেছে এই মুহূর্তটি। ব্যালট বাক্স পর্যন্ত পৌঁছানোর এই পথটি তৈরি হয়েছে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে। যার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জেঁকে বসা শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী শাসনের পতন ঘটেছে। বিএনপি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর টানা আন্দোলনের পরেও এক দশকেরও বেশি সময় ধরে…
সেদিনের ছবিগুলো একই সঙ্গে ছিল চমকপ্রদ এবং উদ্বেগজনক। সেখানে দেখা যাচ্ছিল একদল সাংবাদিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনের একজন প্রার্থীর পক্ষে প্রকাশ্য রাস্তায় নেমে রাজনৈতিক মিছিলে অংশ নিচ্ছেন। যাদের মধ্যে বর্ষীয়ান এবং সাংবাদিক সংগঠনের সাবেক ও বর্তমান শীর্ষ নেতারাও ছিলেন। যে প্রার্থীর পক্ষের মিছিলে সাংবাদিকরা অংশ নিয়েছিলেন তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন। তার অবস্থান রাজনৈতিকভাবে নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। তবে এটিই মূল সমস্যা নয়। আমার গভীর উদ্বেগের বিষয় হলো, এই সাংবাদিকরা ছদ্মবেশে থাকা কোনো রাজনৈতিক কর্মী ছিলেন না; তারা নিজেরাই সাংবাদিক ছিলেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের এই দলীয় ভূমিকার কথা গর্বের সঙ্গে প্রচার করছিলেন! দেশের অনেক সাধারণ মানুষের কাছেই এই দৃশ্যটি বেশ পীড়াদায়ক ছিল। কারণ সাংবাদিকতার চিরন্তন…
জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের এক্স (সাবেক টুইটার) প্রোফাইল থেকে দেওয়া এবং পরে মুছে ফেলা একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে যা ঘটেছে, তা কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিতর্ক নয়। এর মাধ্যমে একটি বিশেষ চিন্তাধারা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে সামনে চলে এসেছে। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ আগে থেকেই জামায়াতের রাজনীতি নিয়ে যা সন্দেহ করত, এই ঘটনায় সেই দৃষ্টিভঙ্গিটিই আরও নগ্নভাবে ফুটে উঠেছে। সেই পোস্টে দাবি করা হয়েছিল, নারীদের নেতৃত্বে আসা উচিত নয় কারণ ‘আল্লাহ এর অনুমতি দেননি’। এমনকি জনজীবনে নারীর অংশগ্রহণকে ‘নৈতিক অবক্ষয়’ বা ‘বেশ্যাবৃত্তির এক রূপ’ বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। এই কথাগুলো মানুষের মনে গভীর আঘাত দিয়েছে। কারণ, এর মাধ্যমে দেশের অর্ধেকের বেশি মানুষকে (নারী)…
বাগেরহাটে নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের আটককৃত উপজেলা পর্যায়ের নেতা জুয়েল হাসান সাদ্দামের স্ত্রী ও নয় মাস বয়সী ছেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনা সাধারণ মানুষের মনে গভীর শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ওই নারীকে তার ঘরের ভেতর মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। আর শিশুটির মরদেহ পাওয়া গেছে কাছেই। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে তদন্তকারীরা ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষা করছেন। তবে স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দেওয়া তথ্যের মধ্যে ভিন্নতা রয়েছে। ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। তবে এর পরবর্তী ঘটনাগুলো জনমনে আরও বেশি সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। সাদ্দাম বর্তমানে যশোর কারাগারে বন্দী আছেন। স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যুর পর তাদের শেষবার দেখার জন্য বা জানাজায় অংশ…
দেশের সাংবাদিক, সম্পাদক এবং সংবাদপত্রের মালিকরা যেকোনো পরিস্থিতিতে স্বাধীন সাংবাদিকতা চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। তারা সতর্ক করে দিয়েছেন, অভ্যন্তরীণ বিভাজন সংবাদমাধ্যমকে রাজনৈতিক চাপ, ভয়ভীতি এবং জনরোষের মুখে ক্রমেই আরও বেশি অরক্ষিত করে তুলছে। গত শনিবার ঢাকায় আয়োজিত প্রথম ‘মিডিয়া কনভেনশন ২০২৬’-এ অংশ নিয়ে বক্তারা বলেন, থেমে থাকা সংস্কার এবং আমলাতান্ত্রিক স্থবিরতা সংবাদকর্মীদের প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দিয়েছে। এর ফলে নিউজরুমগুলো দীর্ঘস্থায়ী হুমকির মুখে পড়ছে। সম্মেলনটি যৌথভাবে আয়োজন করেছিল নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) এবং সম্পাদক পরিষদ। এটি ছিল মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর বারবার আসা আঘাতের বিরুদ্ধে একটি প্রতিবাদ। টেলিভিশন মালিক, জাতীয় প্রেস ক্লাব, সাংবাদিকদের সংগঠন এবং…
২০২৪ সালের আগস্টের শুরুতে ছাত্র-জনতার এক রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানের মাধ্যমে একটি কর্তৃত্ববাদী শাসনের পতন ঘটে। এরপর যখন অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে, তখন সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ছিল আকাশচুম্বী। নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে এই ক্ষমতা গ্রহণকে নৈতিক ও রাজনৈতিক পুনর্জাগরণ হিসেবে দেখা হয়েছিল। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং জবাবদিহিমূলক শাসন ব্যবস্থার এক নতুন আশা জেগেছিল জনমনে। অনেকেই তখন মেনে নিয়েছিলেন যে অর্থবহ পরিবর্তন আসতে সময় লাগবে। আমলাতন্ত্র, পুলিশ, সেনাবাহিনী এবং বিচার বিভাগের মতো রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো গত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে পূর্ববর্তী শাসকগোষ্ঠীর অনুগত ছিল। সাধারণ মানুষ ধৈর্য ধরেছিল এই বিশ্বাসে, দীর্ঘ ১৬ বছরের জরাজীর্ণ ব্যবস্থা এক নিমেষে ভেঙে…
জাতীয় নির্বাচনেরে আগেভাগে লটারির মাধ্যমে দেশের ৬৪ জেলায় পুলিশ সুপার (এসপি) নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। পুলিশ কর্মকর্তাদের পদায়ন ও দায়িত্ব প্রদানে এমন ব্যবস্থা বিশ্বজুড়েই প্রথম। তবে এটি শুধু নিয়োগ-বদলির প্রশাসনিক পরীক্ষা নয়, বরং এটি দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর প্রতি জনগণের আস্থাহীনতা কতটা গভীরে পৌঁছেছে, তা-ই প্রকাশ করে। কর্মকর্তারা বলছেন, লটারির উদ্দেশ্য খুবই স্পষ্ট। দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষমতাসীন দলগুলোর বিরুদ্ধে নির্বাচনের আগে নিজেদের অনুকূলে পরিবেশ তৈরি করতে পুলিশের পোস্টিংয়ে প্রভাব ফেলার অভিযোগ রয়েছে। লটারি ব্যবস্থায় সেই প্রভাব বিস্তারের সুযোগ থাকছে না। প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সরকারি বাসভবন যমুনায় গত রোববার রাতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে হাতে হাতে এই লটারি হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের মাধ্যমে…

