জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের অনিবার্য চরিত্র: প্রধানমন্ত্রী

জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের অনিবার্য চরিত্র: প্রধানমন্ত্রী
মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী
Advertisement
Advertisement

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম অনিবার্য চরিত্র শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। আমরা দেখেছি অতীতে যেভাবে শহীদ জিয়াউর রহমানকে, তার অবদানকে, তার কাজকে খাটো করার চেষ্টা করা হয়েছে, এর থেকে প্রমাণ হয়েছে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান অবশ্যই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অনিবার্য চরিত্র।’

শুক্রবার মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপি মহাসচিব ও এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আগেও বলেছি, অতীত নিয়ে আমরা সব সময় পড়ে থাকলে আমাদের এক চোখ অন্ধ, আর অতীত ভুলে গেলে আমাদের দুই চোখ অন্ধ। সুতরাং অতীতকে একেবারে ভুলে যাওয়া চলবে না, ঠিক তেমনি অতীত নিয়ে পড়ে থাকলেও চলবে না।’

তিনি বলেন, ‘কিছুদিন আগেও অতীত নিয়ে অনেক বেশি চর্চা হয়েছে। যা সামনের সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎকে বাধাগ্রস্ত করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে গৌরবজনক অধ্যায় আমাদের স্বাধীনতা ও ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ। প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম স্বাধীনতার এবং মুক্তিযুদ্ধের গৌরবগাঁথা নিয়ে আলোচনা হবে এটা স্বাভাবিক। তবে আলোচনা, সমালোচনা বা গবেষণার নামে এমন কিছু করা বা বলা যাবে না, যা আমাদের স্বাধীনতা বা মুক্তিযুদ্ধের যে গৌরব অথবা ইতিহাস, তাকে কোনোভাবে খাটো করে।’

আরও পড়ুন

জিয়াউর রহমানের লেখা ‘একটি জাতির জন্ম’ প্রবন্ধের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন তিনি দীর্ঘদিন ধরে লালন করেছেন। ১৯৭২ সালের ২৬ মার্চ দৈনিক বাংলা-তে প্রকাশিত ওই প্রবন্ধে স্বাধীনতার প্রেক্ষাপট স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। শহীদ জিয়ার লেখায় ২৬ মার্চ ১৯৭১ রাত ২টা ১৫ মিনিটের সময়টি উল্লেখ আছে, যা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে গণ্য হতে পারে।

প্রবন্ধটি প্রকাশের পর সেসময় কেউ এর বিরোধিতা করেনি, যা এর সত্যতাকেই প্রমাণ করে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার মূল্য কেবল সেইরাই বুঝতে পারে যারা এর জন্য লড়াই করেছে। ফিলিস্তিনের উদাহরণ টেনে তিনি স্বাধীনতার গুরুত্ব আজও বিশ্বে প্রাসঙ্গিক বলে মন্তব্য করেন।

তিনি ১৯৭১, ১৯৯০ ও ২০২৪ সালের বিভিন্ন আন্দোলনের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, সব সংগ্রামের মূল লক্ষ্য ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারভিত্তিক একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা।

বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন, বৃক্ষরোপণসহ কর্মসংস্থানের বিভিন্ন উদ্যোগ জনগণের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

দেশ গঠনে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা যদি ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাই, তাহলে অবশ্যই একটি স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব।’

সভায় অংশ নেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতারা।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad