বাংলাদেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথে নতুন মাইলফলক হবে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তিনি বলেন, দেশ বর্তমানে এক ঐতিহাসিক মুহূর্তে পৌঁছেছে। দেশের সংবিধানের সপ্তম অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে এক অপশক্তি জনগণের কাছ থেকে রাষ্ট্রের মালিকানা কেড়ে নিয়েছিল এবং গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করেছিল। তবে, দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের পর, বহু প্রাণের বিনিময়ে জনগণের কাছে রাষ্ট্রের মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জনগণের বহুল আকাঙ্ক্ষিত জাতীয় নির্বাচন।’
সোমবার সন্ধ্যায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার এই শুভ সময়ে আমি মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করে কিছু কথা বলতে চাই। দেশের গণতান্ত্রিক উত্তোরণ সহজে আসেনি। এটি সম্ভব হয়েছে বিএনপি এবং গণতন্ত্রের পক্ষের সব রাজনৈতিক দলের দীর্ঘ দেড় দশকের সংগ্রামের ফলস্বরূপ।’
এই সংগ্রামে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ দিয়েছেন, অপহরণ হয়েছেন, নির্যাতিত হয়েছেন। বিশেষ করে ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ১৪ শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ৩০০ জনের বেশি, যোগ করেন তিনি।
গণতন্ত্রের জন্য যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের মাগফিরাত কামনা করছি এবং আহতদের প্রতি সহানুভূতি জানিয়ে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রাম, ১৯৭৫ সালের আধিপত্যবাদ বিরোধী আন্দোলন, ৯০ সালের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধ–এই প্রতিটি বাঁকে হাজার হাজার মানুষ আত্মবলিদান দিয়েছেন। তাদের আত্মত্যাগ বৃথা যেতে পারে না। আমাদের কর্তব্য তাদের চাওয়া পূর্ণ করা এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা।
‘আমাদের কর্মপরিকল্পনায় মূল লক্ষ্য হচ্ছে, দেশের জনগণের মধ্যে রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতা নিশ্চিত করা। এই নির্বাচন একটি বড় সুযোগ হতে পারে জনগণের রাজনৈতিক ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে, বিশেষ করে বেকার যুবক, তরুণ-তরুণী, নারীদের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করার লক্ষ্য নিয়ে, যোগ করেন তিনি।
তারেক রহমান আরও বলেন, দেশের অর্থনৈতিক খাতের সার্বিক সংস্কারের মাধ্যমে এক কোটি কর্মসংস্থান তৈরি করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে বেকার যুবকদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরিত করা যায়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে স্থানীয় পণ্য উৎপাদন এবং বাজারজাতকরণের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ ছাড়া সাইবার নিরাপত্তা, আউটসোর্সিং এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নতুন শিল্প গড়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রকৃত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে দেশের নারীশক্তিকে মূলধারায় যুক্ত করতে হবে। নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড ইস্যু করার পরিকল্পনা রয়েছে, যার মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারগুলোকে সুরক্ষা প্রদান করা হবে। শিক্ষিত বেকারদের জন্য আর্থিক ভাতা দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘কৃষকরা আমাদের দেশের শক্তি। কৃষকদের স্বার্থ রক্ষার জন্য ফার্মাস কার্ড ইস্যু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে তারা কৃষি সংক্রান্ত তথ্য এবং আর্থিক সহায়তা পেতে পারেন। দেশের প্রায় ৪০ লাখ প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হবে।’
নির্বাচনে জনগণের সমর্থন চেয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশকে একটি নিরাপদ, ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য কাজ করব। বিএনপির প্রতিটি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জনগণের সমর্থন প্রয়োজন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এক সঙ্গে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার পথে এগিয়ে যাব। সবাই ধানের শীষে ভোট দিয়ে দেশের উন্নতির পথে অবদান রাখবেন বলে আমি আশা করি।’


