রংপুরে তরুণীর মৃত্যু: মেডিকেল শিক্ষার্থী একদিনের রিমান্ডে

রংপুরে তরুণীর মৃত্যু: মেডিকেল শিক্ষার্থী একদিনের রিমান্ডে
সন্তান হারিয়ে মায়ের আহাজারি। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

রংপুর মহানগরীর নর্থভিউ হোটেলের ছাদ থেকে পড়ে এইচএসসি পরীক্ষার্থী নুজসাত জাহান বিনতির মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেপ্তার মেডিকেল শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আহমেদ সাকিনকে একদিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছে আদালত।

রোববার দুপুরে রংপুর অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. রাশেদ হোসাইন এই আদেশ দেন।

এর আগে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কোতোয়ালি থানার ওসি (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম আদালতে নথিপত্র উপস্থাপন করে জানান, গত ১৬ জুন মধ্যরাত ৩টা ৪৬ মিনিটে সাকিন বিনতিকে ফোন করে একটানা ৫০ মিনিট ১২ সেকেন্ড কথা বলেন।

এ ছাড়া মৃত্যুর আগে ওই দিন চার দফায় কথা বলাসহ গত তিন মাসে তাদের মধ্যে অন্তত ১১৮ বার ফোন কল ও এসএমএস আদান-প্রদানের তথ্য পাওয়া গেছে, যার বেশির ভাগ সাকিন করেছিলেন।

তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, সম্পর্ক গড়ে তুললেও সাকিন পরবর্তীতে সরে যাওয়ার চেষ্টা করায় বিনতি আত্মহত্যায় প্ররোচিত হন।

আদালতে সাকিনের পক্ষে আইনজীবী আব্দুল কাইয়ুম মন্ডল ও পলাশ কান্তি নাগ জামিন আবেদন করেন। বিনতির পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মুবিন। আদালত শুনানি শেষে জামিন নামঞ্জুর করে একদিনের রিমান্ড দেন।

আরও পড়ুন

গত ২২ জুন সন্ধ্যা পৌনে ৬টায় সেন্ট্রাল রোডের ওই হোটেলের ১০ তলার ছাদ থেকে পড়ে মারা যান রংপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী বিনতি।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, বিকেল ৪টা ৫৪ মিনিটে বিনতি ছাদের রেস্টুরেন্টে গিয়ে এক ঘণ্টা মোবাইল ব্যবহার করেন। এরপর ৫টা ৪২ মিনিটে রেলিংয়ে বসেন এবং সেখান থেকে নিচে পড়ে যান। পরে পুলিশ তার আইডি কার্ড দেখে পরিচয় নিশ্চিত করে। বিনতি নগরীর খলিফা পাড়া এলাকার সাবেক সেনাসদস্য নজরুল ইসলামের কন্যা। তার আরও এক ভাই ও বোন আছে।

এই ঘটনায় গত ২৩ জুন বিনতির বাবা নজরুল ইসলাম সাকিনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনকে আসামি করে কোতোয়ালি থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনা ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে মামলা করেন। ওই দিন দুপুরে রংপুর মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাস থেকে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ সাকিনকে গ্রেপ্তার করে।

ডিবির উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী জানান, বিনতির বাবার অভিযোগ ও তথ্যের ভিত্তিতে সাকিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং সাকিন মেয়েটিকে মানসিক নির্যাতন করতেন। তবে আত্মহত্যার আগে রিসেট দেওয়ায় বিনতির মোবাইলে কোনো অ্যাপস পাওয়া যায়নি।

গ্রেপ্তারের পর সাকিন থানায় দাবি করেন, বিনতি তার কাছে প্রাইভেট পড়তেন। বিনতি তাকে পছন্দ করার কথা জানালে তিনি তিন মাস আগে পড়ানো ও যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।

সাকিনের দাবি, বিনতির মৃত্যুর বিষয়ে জানাতে তিনি দুপুর ১২টায় ডিবি অফিসে গিয়েছিলেন, তখন তাকে আটক করে মামলা দেওয়া হয়। তিনি এই ঘটনায় জড়িত নন। এদিকে সাকিনকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে গত ২৩ জুন রাতে মেডিকেল মোড় এলাকায় রংপুর-দিনাজপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করেছিলেন শিক্ষার্থীরা।

পাবলিক স্কুলের ছাত্রীকে প্রাইভেট পড়ানো সাকিন রংপুর মেডিকেল কলেজের শেষ বর্ষের ছাত্র। তিনি নগরীর ধাপ টিকলি এলাকার ফোরকান আলীর ছেলে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad