বরগুনার আমতলী সরকারি এ কে হাই স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী জাবেদ ইমন (১৫) হত্যার বিচার ও হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দাবিতে ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়ক দুই দফা অবরোধ করে এলাকাবাসী এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এতে মহাসড়কে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়।
রোববার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত আমতলী পৌর শহরের এ কে স্কুল চৌরাস্তা এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন তারা।
পরে গুরুত্বপূর্ণ সড়কটিতে অসংখ্য মানুষের ভোগান্তি সৃষ্টি হলে কিছু সময়ের জন্য সড়ক ছেড়ে দেয় আন্দোলনকারীরা।
দুপুর ১টার দিকে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা নিহত ইমনের স্বজনদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে ফের সড়ক অবরোধ করে ৩টা পর্যন্ত সড়কটিতে অবরোধ করেন তারা।
এ সময় আন্দোলনকারীরা ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে ইমন হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। এর মধ্যে গ্রেপ্তার না হলে ফের কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও জানান আন্দোলনকারীরা।
নিহত জাবেদ আমতলী উপজেলার আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের পূর্ব আড়পাঙ্গাশিয়া গ্রামের আউয়াল প্যাদার ছেলে। সে আমতলী সরকারি এ কে হাই স্কুলের বিজ্ঞান বিভাগের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
আন্দোলনে স্বজন, এলাকাবাসী, ইমনের সহপাঠী ও আমতলী উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।
গত ২৯ জুলাই আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের পশুরবুনিয়া স্লুইসগেট এলাকা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় ইমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধারের সময় মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে আমতলী থানা পুলিশের প্রচেষ্টায় তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া যুবদল নেতা মোমেন আকন বলেন, আমরা ধৈর্য্য ধরেছি এতদিন। কিন্তু পুলিশের অবহেলায় অপরাধীরা এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। আমরা উপায় না পেয়ে সড়ক অবরোধ করে বিচার চাইছি।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইয়াকুব হুসাইন বলেন, স্কুল শিক্ষার্থী ইমন হত্যার মামলাটি নৌ পুলিশ তদন্ত করছে। আমরা তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।


