কারাগারে থাকা অবস্থায় প্রাইভেট কার পোড়ানোর ঘটনায় সাবেক মেজর মো. সাদিকুল হক সাদিককে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন নাকচ করেছে আদালত। ফলে অন্য কোনো মামলায় গ্রেপ্তার না থাকায় তার কারামুক্তিতে আর বাধা নেই।
রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম এ আদেশ দেন।
এর আগে, কারাগারে থেকেও কীভাবে সাদিক গাড়ি পোড়ানোর সঙ্গে যুক্ত হলেন—এ বিষয়ে ভাটারা থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. চাঁদ আলী আদালতে লিখিত ব্যাখ্যা দেন।
পুলিশের ব্যাখ্যায় বলা হয়, সাদিক কারাগারে থাকলেও তার আগে দেওয়া প্রশিক্ষণ, নির্দেশনা ও অর্থায়নের মাধ্যমে গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তিনি বিভিন্ন স্থানে গোপন সভা ও প্রশিক্ষণের আয়োজন করে অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।
তবে পুলিশের এই ব্যাখ্যা আমলে না নিয়ে তাকে গাড়ি পোড়ানোর মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন নাকচ করেন আদালত।
সাদিকের আইনজীবী এইচ এম আল-আমিন বলেন, ভাটারা থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় সাদিক উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন। এরপর গাড়ি পোড়ানোর মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়েছিল। আদালত সেই আবেদন নাকচ করায় অন্য কোনো মামলায় গ্রেপ্তার না থাকলে তার কারামুক্তিতে আইনগত বাধা নেই।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর রাতে ভাটারা থানার বিটুমিন গেটের সামনে একটি প্রাইভেট কারে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। গাড়িটির মালিক মনির হোসেন এ ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন। মামলায় কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম উল্লেখ না করে ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়।
পরে তদন্তে সাবেক মেজর সাদিকের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে দাবি করে তাকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়।
এর আগে ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর সামরিক আদালত সাদিককে তিন মাসের কারাদণ্ড দেন। পরে ২০২৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর ভাটারা থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। সেই থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
গত ৭ আগস্ট গাড়ি পোড়ানো ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়। শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী প্রশ্ন তোলেন, ঘটনার সময় সাদিক কারাগারে থাকলে তিনি কীভাবে সরাসরি গাড়ি পোড়ানোর ঘটনায় যুক্ত হলেন। এরপর আদালত পুলিশকে এ বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেন।


