ভারতের কলকাতার একটি আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে দৈনিক আজকের পত্রিকার কুষ্টিয়া প্রতিনিধি দেবাশীষ দত্ত, তার স্ত্রী, তিন বছর বয়সী ছেলে ও শ্বশুর নিহত হয়েছেন। সপরিবারে দেবাশীষ দত্তের মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছে আজকের পত্রিকা পরিবার।
বুধবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ শোক জানানো হয়।
নিহতরা হলেন আজকের পত্রিকার কুষ্টিয়া প্রতিনিধি দেবাশীষ দত্ত (৩৯), তার স্ত্রী আফসানা শারমীন (২৭), তাদের তিন বছর বয়সী ছেলে স্বর্ণশীষ দত্ত এবং দেবাশীষ দত্তের শ্বশুর মো. আকরাম আলি (৬৪)।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেবাশীষ দত্ত ও তার পরিবারের সদস্যদের মর্মান্তিক মৃত্যুতে আজকের পত্রিকা পরিবার গভীরভাবে শোকাহত। তাদের অকালমৃত্যু সংবাদমাধ্যমটির সবাইকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতির এই কঠিন সময়ে আজকের পত্রিকা তাদের পাশে রয়েছে। প্রয়াত দেবাশীষ দত্ত ও তার পরিবারের সদস্যদের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে শোকসন্তপ্ত স্বজনরা যেন এই কঠিন সময়ে ধৈর্য ধারণ ও শোক সামলে নেওয়ার শক্তি পান, সেজন্য প্রার্থনা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে কলকাতার একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নয়জনের মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ছয়জনের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। পরিচয় নিশ্চিত হওয়া ব্যক্তিদের পাঁচজনই বাংলাদেশি।
নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে দেবাশীষ দত্ত, তার স্ত্রী, সন্তান ও শ্বশুর ছাড়াও রয়েছেন ঢাকার সাভারের আহমেদ বাবু। তার বাড়ি সাভারের আমিনবাজার এলাকার বেগুনবাড়িতে। এ ছাড়া ভারতের ঝাড়খণ্ডের গিরিডি জেলার বাসিন্দা সন্দীপ পাসওয়ানের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। এখনো নিহত তিনজনের পরিচয় নিশ্চিত হয়নি।
দেবাশীষ দত্ত কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়া রাজারহাট এলাকার দিলীপ দত্তের ছেলে। তিনি স্থানীয় দৈনিক আজকের আলো পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পাশাপাশি চ্যানেল নাইন ও দৈনিক আজকের পত্রিকার কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ছিলেন।
পারিবারিক সূত্র জানায়, অসুস্থ স্ত্রী আফসানা শারমীনের চিকিৎসার জন্য গত ৩ আগস্ট পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ভারতে যান দেবাশীষ দত্ত। প্রথমে তারা বেঙ্গালুরুতে চিকিৎসা নেন। ১৩ দিনের চিকিৎসা শেষে গত ১৮ আগস্ট তারা কলকাতায় ফেরেন। দেশে ফেরার প্রস্তুতির সময়ই কলকাতার ওই হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পরিবারের চারজনের মৃত্যু হয়। দেবাশীষ দত্তের আট বছর বয়সী আরও একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।


