মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় আড়িয়াল খাঁ নদে আবারও তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। উপজেলার বহেরাতলা-কলাতলা পয়েন্টে সোমবার সকাল থেকে এ ভাঙন শুরু হয়। এতে বহেরাতলা-কলাতলা বেড়িবাঁধের একটি অংশ এবং বহেরাতলা বাজার থেকে কলাতলা যাওয়ার একমাত্র সড়কের কিছু অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ফলে চরম আতঙ্ক ও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন এলাকার হাজারো মানুষ।
স্থানীয়রা জানান, সোমবার সকাল থেকে হঠাৎ নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙনের তীব্রতা বাড়তে থাকে। মুহূর্তের মধ্যেই বেড়িবাঁধের মাটি ধসে নদীতে চলে যায়, ভেঙে পড়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়কের অংশ।
ভাঙন অব্যাহত থাকলে বহেরাতলা বাজার থেকে কলাতলা গ্রামের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা কালাম মাদবর জানান, কলাতলা ও আশপাশের গ্রামের মানুষের হাটবাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং চিকিৎসা সেবার একমাত্র ভরসা এই সড়ক। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে শত শত মানুষ যাতায়াত করেন। সড়কটি ভেঙে যাওয়ায় শিক্ষার্থী, রোগী ও ব্যবসায়ীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
এছাড়া নদীর তীর থেকে মাত্র কয়েক মিটার দূরেই রয়েছে বহেরাতলা দক্ষিণ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের একটি ভোটকেন্দ্র। ভাঙন অব্যাহত থাকলে সেটিও যে কোনো মুহূর্তে নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রায় ১০ বছর ধরে তারা নদী ভাঙনের কবলে রয়েছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে বেড়িবাঁধ নির্মাণের পর কিছুদিন স্বস্তি মিললেও চলতি বছর আবারও ভাঙন শুরু হয়েছে।
তাদের দাবি, অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন এবং অপরিকল্পিত নদী খননের কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। প্রভাবশালী একটি মহল রাতের আঁধারে দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করায় নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে ভাঙন তীব্র হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
বহেরাতলা এলাকার বাসিন্দা নওয়াব মাদবর বলেন, “১০ বছর ধরে আমরা ভাঙনের শিকার। বেড়িবাঁধ হওয়ার পর ভেবেছিলাম রক্ষা পাব। কিন্তু রাতে ড্রেজার দিয়ে বালু কাটার কারণে আবারও সব শেষ হয়ে যাচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আমাদের ঘরবাড়িও থাকবে না।”
এলাকাবাসী দ্রুত ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, অবৈধ ড্রেজার বন্ধ এবং ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ ও সড়ক মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ এম ইবনে মিজান বলেন, “আড়িয়াল খাঁ নদের ভাঙনের সংবাদটি পেয়েছি। পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। ২/১ দিনের মধ্যেই নদীভাঙন ঠেকাতে ও বেড়িবাঁধ রক্ষায় কাজ শুরু করবে। এছাড়া অবৈধ ড্রেজার চললে তা বন্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


