আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয়ের জন্য ১৫২ রানের লক্ষ্য, সেখানে ওপেনিং জুটিতেই ১০৯ রান। কিন্তু শারজাহ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এমন অবস্থা থেকেও ম্যাচ হারতে বসেছিল বাংলাদেশ। পারভেজ ইমন আর তানজিদ হাসান তামিমের ১০৯ রানের জুটির পর মাত্র ৯ রানে হারিয়েছে ৬ উইকেট। তবে বৃহস্পতিবার নুরুল হাসান সোহানের ১৩ বলে ২৩* রানের ক্যামিওতে ৪ উইকেটে ম্যাচ জিতল বাংলাদেশ। ৮ বল হাতে রেখে পাওয়া এই জয়ে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে বাংলাদেশ এগিয়ে গেল ১-০তে।
ইনিংসের ১২তম ওভার পর্যন্ত সবকিছু পক্ষেই ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু ফিফটি করা ওপেনার পারভেজ ফেরার পরই যেন মড়ক লাগে ব্যাটিং অর্ডারে। ১৩ আর ১৫ তম ওভারে রশিদ খান একাই নেন চার উইকেট। সাইফ হাসানকে দিয়ে শুরু, শামীম হোসেনকে দিয়ে শেষ। মাঝে তানজিদ আর জাকের আলীর উইকেট। এই চার ব্যাটারের তিনজনই ফিরেছেন এলবিডব্লিউ হয়ে। তানজিম সাকিবও আউট হয়েছেন একইভাবে, কিন্তু রিপ্লেতে দেখা যায় নূর আহমেদের বল তার ব্যাট ছুঁয়ে প্যাডে লেগেছে। কিন্তু জাকের আর শামীম রিভিউ নিয়ে ফেলায় তার আর সুযোগ ছিল না রিভিউ নেয়ার।
অবশ্য মাঝের সেই ধস থেকে জয় পর্যন্ত দলকে নিয়ে গেছেন রিশাদ আর সোহান। ১৯ তম ওভারে আজমতউল্লাহ ওমরজাইকে প্রথম বলে অফ স্টাম্পের বাইরে সরে গিয়ে স্কয়ার লেগ দিয়ে মেরেছেন দারুণ একটা ছক্কা। পরের বলে রিভার্স স্কুপে মেরেছেন আরো একটা ছয়। এক বল ব্যবধানে রিশাদের ব্যাট ছুঁয়ে বলে কিপারের মাথার ওপর দিয়ে চার হওয়াতে জয় নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের।
এর আগে অবশ্য ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোটাই ছিল বাংলাদেশের হাতে। এশিয়া কাপের অপূর্ণতাও ঘুচেছে শারজায়। লক্ষ্য তাড়ায় নেমে দাপুটে শুরু করে বাংলাদেশ। তানজিদ-ইমনের ব্যাটে পাওয়ারপ্লেতে বিনা উইকেটে তোলে ৫০ রান। শুরু থেকেই উইকেটের চারপাশে শট খেলেছেন দুই ওপেনার। ফিফটি পেয়েছেন দুজনই।
৭১ বলে ১০৯ রানের জুটিতে তানজিদের অবদান ৫০ ও ইমনের ৫৪। যা আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওপেনিংয়ে সর্বোচ্চ জুটি বাংলাদেশের। অবশ্য শারজার ছোট বাউন্ডারির একটা সাহায্যও আছে এখানে। এই দুজনের মারা একেকটা ছক্কার দুরত্ব ছিল ৭০ থেকে ৭৫ মিটার, কিন্তু বল পেরিয়ে যাচ্ছিল গ্যালারির ছাদ। ম্যাচ জুড়ে বেশ কয়েকবার ফোর্থ অফিসিয়াল নতুন বল নিয়ে মাঠেও ঢুকেছেন, ছক্কার পর বলগুলো মাঠের বাইরে চলে যাওয়াতে। বাংলাদেশি দুই ওপেনার আফগান স্পিনারদের সামলেছেন দারুণ। মোহাম্মদ নবী, শারাফউদ্দিন আশরাফ-রশিদ খানের ভেতরে আসা বলগুলোতে এই দুজন টার্গেট করেছিলেন লেগ সাইড বাউন্ডারি। বেশ কয়েকটা স্লগ সুইপে বাউন্ডারিও পেয়েছেন তারা। দুজন মিলে মেরেছেন ছয়টা ছক্কা আর সাত চার।
অবশ্য বড় এই জুটি ভাঙতে পারত ইনিংসে পঞ্চম ওভারেই। মোহাম্মদ নবীর করা সেই ওভারে দুইবারর স্লগ সুইপ করতে গিয়ে ক্যাচ তুলেছেন পারভেজ। ডিপ মিড উইকেটে প্রথমবার গুরবাজ তার ক্যাচ ফেলেন, এক বল পর ফাইন লেগে একই শটে ক্যাচ উঠলে সেটা মিস করেন ফরিদ আহমাদ। ৩৭ বলে তানজিদ খেলেছেন ৫১ রানের ইনিংস, পারভেজের ব্যাট থেকে এসেছে ৩৭ বলে ৫৪।
এর আগে টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ওভারেই উড়ন্ত সূচনা পায় আফগানিস্তান। তাসকিন আহমেদকে তিন চার মারেন ওপেনার ইব্রাহিম জাদরান। তবে সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি আফগানিস্তান। নিজের প্রথম ওভার করতে এসেই ইব্রাহিমকে বোল্ড করেন নাসুম আহমেদ। তানজিম হাসান সাকিবের বলে ফ্লিক করতে গিয়ে স্লিপ এরিয়াতে টপ এজে ক্যাচ্চ তোলেন সেদিকউল্লাহ আতাল।
দারউইশ রাসুলি রান আউট হয়েছেন রহমানউল্লাহ গুরবাজের সাথে ভুল বুঝাবুঝিতে। মোস্তাফিজুর রহমানের বলে উইকেটের পাশ থেকে রান নিতে গিয়ে গুরবাজ ছোটেননন স্ট্রাইকিং এন্ডে। সেখান থেকে বল কুড়িয়ে স্ট্রাইকিং এন্ডে পাঠান মোস্তাফিজ। ছুটে এসে বল কুড়িয়ে স্টাম্প ভাঙেন জাকের আলী।রিশাদকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে লং অনে ক্যাচ দেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই। যদিও এর আগে ৪০ রানের ইনিংসে দলকে টেনে নিচ্ছিলেন গুরবাজ। ফিফটিতে পৌছার আগে এই ডানহাতি ব্যাটার ফিরেছেন তানজিমের ব্যাক অফ দ্য হ্যান্ডের স্লোয়ার ডেলিভারিতে।
৭৩ রানে ৫ উইকেট হারানো দলকে দেড়শো পেরিয়ে নিয়ে গেছেন মোহাম্মদ নবী। শুরুর সেই ধস সামলে ২৫ বলে ৩৮ রানের ইনিংস খেলেছেন এই অভিজ্ঞ ব্যাটার। ছক্কা মেরেছেন চারটা, এর মধ্যে তিনঅটিই মেরেছেন তাসকিন আহমেদকে এক ওভারে। সেই বড় ওভারটা না এলে আফগানিস্তান গুটিয়ে যেতে পারত আরো আগেই। দুটি করে উইকেট নিয়েছেন রিশাদ ও তানজিম। এক উইকেট নেয়া নাসুম আজও ছিলেন দারুণ ছন্দে। দিয়েছেন মাত্র ১৮ রান। মোস্তাফিজ-তাসকিনও নেন একটি করে উইকেট। যদিও আজ বেশ খরুচে বল করেছেন তাসকিন, ৪ ওভার বল করে দিয়েছেন ৪০ রান।


