দেশে হামের প্রাদুর্ভাব অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় (বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে সিলেট বিভাগে দুইজন এবং ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে একজন করে রয়েছেন।
শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৯৫ জনে এবং নিশ্চিত হামে মারা গেছেন ৯৯ জন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নতুন করে ৯৭২ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন এবং ১৮৭ জনের দেহে হামের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
এই সময়ে চিকিৎসার জন্য দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ৮৮৬ জন এবং সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৮৫০ জন।
চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সারা দেশে মোট ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৮ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন ও ল্যাব-নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা ১৭ হাজার ৭৩০ জন। এখন পর্যন্ত মোট ১ লাখ ২২ হাজার ৭৯৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন এবং ১ লাখ ১৮ হাজার ৫৪০ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আক্রান্তের শীর্ষে রয়েছে ঢাকা বিভাগ। ঢাকা বিভাগে এখন পর্যন্ত ৬১ হাজার ৯৮২ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন, যার মধ্যে ১০ হাজার ৪৬৪ জন নিশ্চিত রোগী। এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৬ হাজার ৫৯২ জন, বরিশালে ১৫ হাজার ৩৬৬ জন, রাজশাহীতে ৯ হাজার ৩৪৮ জন, খুলনায় ৯ হাজার ২৭২ জন, সিলেটে ৯ হাজার ১৭৩ জন, ময়মনসিংহে ৬ হাজার ৭৫৮ জন এবং রংপুর বিভাগে ২ হাজার ৫৫৭ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন।
এদিকে জাতীয় হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি ২০২৬-এর আওতায় সারা দেশে ১ কোটি ৮০ লাখ ১৫ হাজার ৬৪ জন শিশুকে টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও এ পর্যন্ত ১ কোটি ৯৩ লাখ ২৬ হাজার ৮৯৪ জন শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার ১০৭ দশমিক ৩ শতাংশ।
একইভাবে দেশের ১২টি সিটি করপোরেশন এলাকাতেও লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করেছে টিকা কাভারেজ। সিটি করপোরেশনগুলোতে ১৯ লাখ ৫ হাজার ৯৫০ জন লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে মোট ২০ লাখ ৫০ হাজার ৮২৫ জন শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে (কাভারেজ ১০৭ দশমিক ৬ শতাংশ)।


