২৩ বছর আগে ডারউইনের মারারা ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ইনিংস ও ১৩২ রানে হেরেছিল বাংলাদেশ। এবার সেই মাঠেই স্বাগতিকদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করেছে টাইগাররা। দ্বিতীয় দিন শেষে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১৫৩ রানের লিড নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ।
অস্ট্রেলিয়াকে প্রথম ইনিংসে ১৯৮ রানে অলআউট করার পর ব্যাট হাতেও দারুণ দৃঢ়তা দেখিয়েছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় দিন শেষে ১১০ ওভারে ৬ উইকেটে ৩৫১ রান করে টাইগাররা।
বাংলাদেশের বড় লিডের ভিত গড়ে দেন তানজিদ হাসান তামিম ও মুমিনুল হক। প্রথম দিনের ১ উইকেটে ৯৬ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করে বাংলাদেশ। এরপর দুজনের ব্যাটে আসে ১০২ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি। দলীয় ১৩৮ রানে ৪৯ রান করে মুমিনুল ফিরলেও ততক্ষণে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের দিকে অনেকটাই ঝুঁকে যায়।
এরপর টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন তানজিদ হাসান। মাত্র দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নেমেই আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিংয়ে অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের চাপে ফেলেন বাঁহাতি এই ওপেনার। নাথান লায়নের বলে আউট হওয়ার আগে খেলেন ১০১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস।
তানজিদের পর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও রাখেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান। ৮৪ রানের ইনিংসে দলকে বড় লিডের পথে এগিয়ে দেন তিনি। এরপর মুশফিকুর রহিম ও মেহেদী হাসান মিরাজ ইনিংসের হাল ধরেন।
দিনের শেষ দিকে কয়েকটি দ্রুত উইকেট তুলে নিয়ে অস্ট্রেলিয়া কিছুটা চাপ তৈরি করলেও মিরাজ ও হাসান মাহমুদ সেই চাপ সামলে নেন। দিন শেষে মেহেদী হাসান মিরাজ ৩২ এবং হাসান মাহমুদ ১৩ রানে অপরাজিত রয়েছেন।

এর আগে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের পেসারদের তোপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। ক্যারিয়ারসেরা বোলিং করে হাসান মাহমুদ ৫৫ রানে নেন ৬ উইকেট। তার সঙ্গে তাসকিন আহমেদ ও এবাদত হোসেনও দারুণ নিয়ন্ত্রণে বল করেন। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে একমাত্র উল্লেখযোগ্য প্রতিরোধ গড়েন স্টিভেন স্মিথ, করেন ৭১ রান। শেষ পর্যন্ত ৫৩ ওভারে ১৯৮ রানেই গুটিয়ে যায় স্বাগতিকদের ইনিংস।
২৩ বছর আগে এই মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে ইনিংস ও ১৩২ রানে হেরেছিল বাংলাদেশ। এবার সেই মারারা ক্রিকেট গ্রাউন্ডেই বদলে গেছে দৃশ্যপট। বল হাতে অস্ট্রেলিয়াকে ধসিয়ে দেওয়ার পর ব্যাট হাতে ১৫৩ রানের লিড—দুই দিন শেষে ম্যাচের চালকের আসনে এখন বাংলাদেশ।


