মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষি মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন-উর রশীদ বলেছেন, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ–এই তিনটি খাত দেশের অর্থনীতির মূলভিত্তি। সমন্বিত পরিকল্পনা ও কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে এ খাতগুলোর উন্নয়ন ঘটাতে পারলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি আরও শক্তিশালী ও টেকসই হবে।
বুধবার দুপুরে ঢাকায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, কৃষি উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। দেশে কৃষির উন্নয়ন হলে প্রধান অর্থনীতি স্থিতিশীল হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, বিশ্বের অনেক দেশ বছরের ছয় থেকে আট মাস বরফে আচ্ছাদিত থাকলেও উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। অথচ বাংলাদেশে বারো মাস ফসল উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে।
অনুকূল আবহাওয়া ও উর্বর জমিকে কাজে লাগিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
মাছ ও ভাত বাঙালির খাদ্যসংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, কৃষি উৎপাদনে বিশ্বে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান অর্জনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞদের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। দেশের আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক সম্পদ কাজে লাগিয়ে কৃষিপণ্য রপ্তানির বিপুল সম্ভাবনাও রয়েছে বলে জানান তিনি।
দুর্নীতিমুক্ত ও পেশাদারিত্বপূর্ণ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আন্তরিক সহযোগিতা ছাড়া কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন সম্ভব নয়।
এ সময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষি প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেশি। অতীতের সীমাবদ্ধতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমান সরকার সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি আরও বলেন, দেশের খাল-বিল, নদী-নালা ও জলাশয় মৎস্যসম্পদের মূল ভান্ডার। বিভিন্ন কারণে অনেক জলাশয় ভরাট ও দখল হয়ে গেছে, যা উদ্বেগজনক। এসব জলাশয় চিহ্নিত করে পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সভায় মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মুহাম্মদ জাবেরসহ মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


