নির্বাচনী সহিংসতায় হতাহতের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারা দেশে চলমান নির্বাচনী সহিংসতায় হতাহতের ঘটনায় সংস্থাটি তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে।
একই সঙ্গে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে সব রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের প্রতিহিংসার রাজনীতি ও সহিংসতা পরিহারের আহ্বান জানিয়েছে এইচআরএসএস।
সংস্থাটি জানিয়েছে, মনোনয়নকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষ, হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটছে।
গত চার মাসে গণমাধ্যম ও সংস্থার তথ্যমতে, অন্তত ১১৩টি ঘটনায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ৯৮১ জন আহত এবং পাঁচজন নিহত হয়েছেন। বুধবার শেরপুর-৩ আসনে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে শতাধিক ব্যক্তি আহত এবং একজন নিহত হন।
এ ছাড়া ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনী সহিংসতায় একাধিক প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে।
এইচআরএসএস জানিয়েছে, নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়া নারী কর্মীরা হামলা, লাঞ্ছনা, হেনস্থা এবং সাইবার বুলিংসহ নানা ধরনের সহিংসতার শিকার হচ্ছেন, যা গণতান্ত্রিক অধিকার ও ব্যক্তিস্বাধীনতার পরিপন্থী।
সংস্থাটির মতে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে সারা দেশে বেশ কয়েকটি ‘অগ্রহণযোগ্য’ জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সে সময় সহিংসতা ও প্রতিহিংসার রাজনীতির মধ্যেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ, প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণায় বাধা, হুমকি-ধামকি, ভোট কারচুপি, জোরপূর্বক ভোটাধিকার হরণ, কেন্দ্র দখল ও ভোট বাণিজ্যসহ নানা ধরনের নির্বাচনী সহিংসতা ঘটেছিল।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দেশে নানা সংস্কার ও পরিবর্তন এলেও রাজনৈতিক অঙ্গনে কোনো দৃশ্যমান পরিবর্তন হয়নি, যা গভীর উদ্বেগের বিষয় বলে মত দিয়েছে সংস্থাটি।
এইচআরএসএসের দাবি, আক্রমণাত্মক রাজনৈতিক আচরণ ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য সহিংসতা উসকে দিচ্ছে।
তারা এসব ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বৃদ্ধি এবং সব দলের রাজনৈতিক সহাবস্থানের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।


