জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও অবসরপ্রাপ্ত মেজর আখতারুজ্জামানের জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে ঢাকার আদালতে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে। বিচারকের উপস্থিতিতেই কয়েক দফা উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বিচারক এজলাস থেকে নেমে যান। পরে পরিস্থিতি শান্ত হলে বিচারক আবার এজলাসে ফিরে জামিন আবেদনের শুনানি গ্রহণ করেন। শুনানি চলাকালেও কয়েক দফা হট্টগোলের ঘটনা ঘটে।
রোববার দুপুর ২টা ২৪ মিনিটের দিকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামসেদ আলমের আদালতে এ ঘটনা ঘটে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা, সরকারি কাজে বাধা ও দায়িত্বরত নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে করা মামলায় একদিনের রিমান্ড শেষে আখতারুজ্জামানকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় তার জামিনের আবেদন করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করে তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করে যুক্তি তোলে ধরেন।
শুনানি শুরু হলে দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও হট্টগোল শুরু হয়। বিচারকের উপস্থিতিতেই কয়েক দফা উত্তেজনা তৈরি হলে আদালতের কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটে।
এদিকে আদালত চত্বরে আখতারুজ্জামানের জামিনের দাবিতে জামায়াতপন্থী লোকজন বিক্ষোভ করলে তাদের সঙ্গে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের ধাক্কাধাক্কি ও মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে আদালত এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
পরে জামিন আবেদনের ওপর শুনানি শেষে আদালত আখতারুজ্জামানের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এর আগে শনিবার তাকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর তার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১ অক্টোবর জামায়াতে ইসলামীর ৩৪ জন প্রতিনিধি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মদিনা থেকে ঢাকায় আসেন। সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে তাদের বহনকারী ফ্লাইটটি শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণ করে। পরে যাত্রীরা ইমিগ্রেশন শেষ করে লাগেজ সংগ্রহের জন্য ৮ নম্বর বেল্ট এলাকায় যান।
এ সময় যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপের কারণে ট্রলি সংকট দেখা দেয়। ট্রলি সংগ্রহের জন্য দীর্ঘ লাইন তৈরি হলে কয়েকজন প্রটোকল সহকারী নিয়ম ভেঙে ট্রলি নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, লাগেজ পেতে দেরি ও জমজমের পানি না পাওয়াকে কেন্দ্র করে কয়েকজন উত্তেজিত হয়ে অশোভন আচরণ করেন। এতে বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় সরকারি কাজে বাধা ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগও আনা হয়েছে।
এ ঘটনায় বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজিব বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন। মামলায় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে শুক্রবার রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় নিজ বাসা থেকে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এক দিনের রিমান্ড শেষে রোববার তাকে আদালতে হাজির করা হয়।


