খুলনায় নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী আয়মান মো. আজমুল হোসেনকে হত্যার বিষয়ে সন্দেহভাজন হিসেবে একজনকে গ্রেপ্তারের পর তার কাছ থেকে পুরো ঘটনাটির বর্ণনা পাওয়ার দাবি করছে এসআরবি।
গ্রেপ্তার শেখ আসিফ হোসেন এসআরবিকে জানিয়েছেন, আজমুলকে নির্যাতনের পর তার কাছ থেকে চুরি করে ভাত খাওয়া এবং মোবাইল ও টাকা চুরি করার বিষয়ে স্বীকারোক্তি আদায় চেষ্টা করা হয়। এরপর তার বক্তব্যের ভিডিও ধারণ করে কয়েকজন।
এক পর্যায়ে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয় আজমুলকে। তখন তিনি চারতলার ছাদ থেকে ৩ ফুট দূরের তৃতীয় তলায় লাফ দেন। সেখান থেকে পা পিছলে নীচে পড়ে মারা যান ।
এই হত্যার বিষয়ে আসিফ জানান, গত শুক্রবার রাতে তিনি সেই মেসে তার ব্যাচের সহপাঠীদের সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখানে আজমুলকে মারধর করার সময়ও তিনি উপস্থিত ছিলেন।
এই ঘটনার সঙ্গে মেস ম্যানেজার মেহেদী হাসান ও কৃষি ব্যাংকের খুলনার টাউন নওয়াপাড়া শাখায় ক্যাশ অফিসার হাবিব রিফাতের জড়িত থাকার কথাও এসআরবিকে জানিয়েছেন আসিফ। তিনি জানান, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খাজা হলের সামনে থাকা ‘মা বাবার দোয়া তানহা জুস কর্ণারের মালিক তারেক ওরফে রুবেল বেশি মারধর করেছেন।
এসআরবি-৬ এর অধিনায়ক নিসতার আহমেদ বলেন, আসিফকে গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী থানার ভাটিয়াপাড়া গোলচত্ত্বর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর খুলনার হরিণটানা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ নিয়ে এই হত্যা মামলায় গত দুই দিনে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী এবং একজন ফলের রস বিক্রেতা।
তদন্তে আজমুল হত্যা মামলায় নতুন নতুন তথ্য সামনে আসছে। ইতোমধ্যেই একজন আসামি দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
হাবিব, রিফাত এবং রুবেলকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি। প্রতাপ সরকার নামের একজনকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ।
হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা. ইকবাল হোসেন বলেন, ‘মেস ম্যানেজার মেহেদীকে গ্রেপ্তার করতে পারলে হত্যার অনেক তথ্যই পাওয়া যাবে।’
গত ১৮ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল রোড সংলগ্ন ইসলামনগর সড়কের একটি চারতলা ভবনের ছাদে ভাত চুরির অভিযোগ এনে আজমুলকে পেটানো হয়। তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি স্বজনদের।
এ ঘটনায় শনিবার রাতে নিহত আজমুলের বাবা কুতুবউদ্দিন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থীসহ ২০-২৫জন অজ্ঞাত আসামি করে হরিণটানা থানায় মামলা করেন।


