যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যকার বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনকে ‘ভুয়া খবর’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর।
ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি ‘তাৎক্ষণিক বাণিজ্য চুক্তি’ নয়া দিল্লি প্রত্যাখ্যান করেছে এবং আরও ভালো শর্তের জন্য অপেক্ষা করছে—এমন একটি প্রতিবেদন সম্প্রতি প্রকাশ করে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। সেই প্রতিবেদনটিই নাকচ করে দেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।
সার্জিও গোর স্পষ্ট করে বলেন, ‘কেউ কোনো কিছু প্রত্যাখ্যান করেনি’। রয়টার্সের ওই প্রতিবেদনটিকে ‘ভুয়া খবর’ আখ্যা দিয়ে গত সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) তিনি লেখেন: ‘ভুয়া খবরের সতর্কতা! কেউ কোনো কিছু প্রত্যাখ্যান করেনি। উভয় পক্ষই অত্যন্ত গঠনমূলক বৈঠক করেছে এবং একটি বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার বিষয়ে তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। আমরা সক্রিয়ভাবে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। রয়টার্সের আরও দায়িত্বশীল হওয়া উচিত!’
তার এই মন্তব্যের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলও প্রতিবেদনটিকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর’ বলে প্রত্যাখ্যান করেন।
ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, পীযূষ গোয়েল জোর দিয়ে বলেছেন যে দুই দেশের মধ্যকার আলোচনা সঠিক পথেই রয়েছে।
তিনি বলেন,‘গত জুনে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিশন গ্রির যখন দিল্লি সফরে এসেছিলেন, তখন তার সঙ্গে আমার দারুণ এক বৈঠক হয়েছিল। উভয় পক্ষই ভারসাম্যপূর্ণ, বাণিজ্যিকভাবে অর্থপূর্ণ এবং দুই দেশের ব্যবসায়ী, কৃষক, শ্রমিক ও ভোক্তাদের জন্য বাস্তব সুফল বয়ে আনবে এমন এক চুক্তির ব্যাপারে তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। উভয় পক্ষই এ বিষয়ে পুরোপুরি সক্রিয় রয়েছে ‘
গত মাসে মার্কিন-ভারত কৌশলগত অংশীদারি ফোরামে সার্জিও গোর জানিয়েছিলেন, এই বাণিজ্য চুক্তিটি এখন ‘চূড়ান্ত পর্যায়ে’ রয়েছে।
সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, গোর তখন বলেছিলেন, ‘এই চুক্তির বেশির ভাগ কাজই শেষ। দুই পক্ষেরই সামান্য কিছু বিষয় বাকি আছে। চুক্তির প্রায় ৯৯ শতাংশ কাজই সম্পন্ন হয়ে গেছে।’ গত দেড় বছর ধরে এই আলোচনা চলছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ভারতের চুক্তির চেয়ে ভালো কিছু করতে পারলে আমরা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকব। তবে আমি এটি দ্রুত চূড়ান্ত করতে বদ্ধপরিকর।’
চলতি মাসের শুরুর দিকে পীযূষ গোয়েলও এই চুক্তিটিকে ‘অত্যন্ত ন্যায্য ও সমতাভিত্তিক’ বলে বর্ণনা করেছিলেন। তিনি জানান, দুই পক্ষই এখন বাকি থাকা মাত্র ১ শতাংশ কাজ গোছাতে ব্যস্ত রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এটি এমন একটি চুক্তি যা আমাদের মার্কিন বাজারে অগ্রাধিকারমূলক প্রবেশাধিকার দেবে। আমাদের জন্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলো যেমন আমাদের প্রতিবেশী ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর থেকে বাড়তি সুবিধা পাওয়া। প্রতিটি দেশই আসলে এই দৃষ্টিকোণ থেকেই বিষয়গুলো দেখে।’


