বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ব্রিকস ও সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (এসসিও)-এর পূর্ণ সদস্যপদ লাভে রাশিয়ার সমর্থন চেয়েছেন। সোমবার মস্কোতে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ অনুরোধ জানান।
ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে নিয়ে গঠিত ব্রিকস সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সম্প্রসারিত হয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও উন্নয়ন সহযোগিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জোটে পরিণত হয়েছে। এর আগেও বাংলাদেশ ব্রিকসে যোগ দেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের এ অনুরোধের বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন লাভরভ।
বৈঠকে ইউরেশিয়ান ইকোনমিক কমিশন (ইইসি)-এর সঙ্গে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) করার ক্ষেত্রেও রাশিয়ার সহযোগিতা কামনা করে বাংলাদেশ। ইইসির সদস্য দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে রাশিয়া, বেলারুশ, আর্মেনিয়া, কাজাখস্তান ও কিরগিজস্তান।
দুই নেতা রাশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নিরাপদ ও নিয়মিত কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ নিয়েও আলোচনা করেন। পাশাপাশি রিডমিশন চুক্তি, মানবসম্পদ বিষয়ক সমঝোতা স্মারকসহ (এমওইউ) দুই দেশের মধ্যে থাকা বিভিন্ন চুক্তি দ্রুত সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্ব দেন।
বৈঠকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন হওয়ায় রাশিয়া সরকারকে ধন্যবাদ জানান খলিলুর রহমান। একইসঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দ্বিতীয় ইউনিট চালু করতে রাশিয়ার অব্যাহত সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
রাশিয়ায় আটকে পড়া কয়েকজন বাংলাদেশি নাগরিককে নিরাপদে দেশে ফেরত আনার বিষয়েও সহায়তা চান বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ বিষয়ে রুশ সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন ল্যাভরভ।
বৈঠকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছাপ্রণোদিত ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিয়েও আলোচনা হয়। রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে রাশিয়া সহযোগিতা করতে আগ্রহী বলে জানান রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
এ ছাড়া শিল্প, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, কৃষি, গবেষণা ও প্রযুক্তি, সংস্কৃতি, শিক্ষা, পর্যটন, পরিবহন এবং প্রতিরক্ষা খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা পর্যালোচনা করেন দুই নেতা। এসব ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে তারা একমত হন।
বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যে রাশিয়ার বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের জন্য শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত (ডিএফকিউএফ) প্রবেশাধিকার দেওয়ার অনুরোধ জানান খলিলুর রহমান। একইসঙ্গে বাংলাদেশি রপ্তানি পণ্যের নিবন্ধন প্রক্রিয়া দ্রুততর করা এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ও হাইটেক পার্কগুলোতে রুশ বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
বিশেষ করে প্রকৌশল, খাদ্য ও কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, পেট্রোকেমিক্যাল, ইস্পাত শিল্প এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।


