ভিসা না দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে ৯১ শিক্ষার্থীর ৮ কোটি ৩৮ লাখ ৯৪ হাজার টাকা আত্মসাতের মামলার মূলহোতা মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ ওরফে মো. মতিউর রহমানসহ চার আসামির রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।
বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। আদালত প্রাঙ্গণে পুলিশের হেফাজতে থাকা আসামিদের ওপর ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা হামলা চালিয়েছেন।
রিমান্ড মঞ্জুর হওয়া অন্য আসামিরা হলেন রাবেয়া খাতুন তানিয়া, সাইদুর রহমান ও মো. তানজির ইসলাম। শুনানির পর তানজিরের চার দিন এবং মূলহোতা হারুন অর রশিদসহ অপর তিন আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।
এর আগে, আসামিদের আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ভাটারা থানার উপপরিদর্শক মো. বিল্লাল ভূঁইয়া। শুনানি চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গোলাম মর্তুজা ইবনে ইসলাম রিমান্ডের পক্ষে আদালতে যুক্তি তুলে ধরেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের বিবরণ অনুযায়ী, আসামিদের আদালতে তোলার সময় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা তাদের লক্ষ্য করে গালিগালাজ শুরু করেন এবং আদালতের বারান্দায় কয়েকজন হামলার চেষ্টা চালান। শুনানি শেষে রিমান্ডের আদেশ হলে আদালতে উপস্থিত ভুক্তভোগীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।
পরে পুলিশ প্রহরায় হেলমেট, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও হাতকড়া পরিয়ে আসামিদের সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামিয়ে হাজতখানায় নেওয়ার আগমুহূর্তে উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা আবারও হামলা চালান।
এ সময় পকেট গেট দিয়ে আসামিদের হাজতখানার ভেতরে নেওয়া হলে শিক্ষার্থীরা হাজতখানার প্রধান গেট ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন এবং পুলিশের সঙ্গে মুখোমুখি অবস্থানে যান। পরে বাদীপক্ষের আইনজীবী রুহুল আমিন মোল্লাসহ কয়েকজন তাদের শান্ত করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ভিসা গাইড কোম্পানি স্টুডেন্ট ভিসার মাধ্যমে চার মাসের মধ্যে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের বিদেশে পাঠানোর আশ্বাস দেয়। পরবর্তীতে জাস্ট থট এডুকেশন কনসালটেন্ট কোম্পানি বিভিন্ন সময়ে ৯১ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৮ কোটি ৩৮ লাখ ৯৪ হাজার টাকা নেয়। নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হলেও তাদের বিদেশে পাঠানো হয়নি। শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ করলে বিভিন্ন সময়ে স্টুডেন্ট ও ফ্যামিলি ভিসা প্রসেসিংয়ের আশ্বাস দিয়ে পরবর্তীতে টাকা আত্মসাৎ করা হয়।
এই ঘটনায় গত ৮ জুলাই ভুক্তভোগীদের পক্ষে আল আমিন বাদী হয়ে ভাটারা থানায় মামলাটি করেন। মামলায় ১৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও সাত থেকে আটজনকে আসামি করা হয়েছে।


