জিয়া হত্যায় অভিযুক্ত অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোজাফফর আটক

জিয়া হত্যায় অভিযুক্ত অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোজাফফর আটক
অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোজাফফর। ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যায় জড়িত অভিযোগে মোজাফফর হোসেন নামে একজনকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি সেনাবাহিনীর মেজর পদবীর কর্মকর্তা ছিলেন। একটি গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার মধ্যরাতে ঢাকার বনানী ডিওএইচএস থেকে তাকে আটক করা হয়।

জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি দেশ থেকে পালিয়ে যান বলে ধারণা পুলিশের।  মোজাফফর হোসেন প্রায় ৪৫ বছর ধরে পলাতক ছিলেন। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মেজর মোজাফফর হোসেন দীর্ঘ সময় ভারতে আত্মগোপনে ছিলেন। ১৯৯৭ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত তিনি সেখানে অবস্থান করেন। পরে তিনি ছদ্মনাম ব্যবহার করে সীমান্ত অতিক্রম করে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতেন।

ডিএমপির গোয়েন্দা পুলিশ প্রধান শফিকুল ইসলাম জানান, নিয়ম অনুযায়ী আগে তাকে তার বাহিনীতে হস্তান্তর করা হবে।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পরিচালক লে. কর্নেল সামি উদ দৌলা চৌধুরী বৃহস্পতিবার বিকালে জানান, মোজাফফর হোসেন অবসরপ্রাপ্ত ছিলেন না। ফলে সেনাবাহিনীর প্রচলিত বিধান অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
লে. কর্নেল সামি আরও জানান, দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর তাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তাকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলছে।

আরও পড়ুন

পুলিশ জানায়, ১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোররাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে হামলা চালিয়ে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যা করে একদল বিপথগামী সেনা কর্মকর্তা। এই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেওয়া সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে মেজর মোজাফফর হোসেন ও ক্যাপ্টেন মোসলেহ উদ্দিন ছিলেন অন্যতম। জিয়া হত্যাকাণ্ডের পর যখন বিদ্রোহ ব্যর্থ হয়, তখন মেজর মোজাফফর সীমান্ত পথে পালিয়ে যান।

জিয়া হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার দায়ে সামরিক ট্রাইবুনালে ১৮ জন অফিসারকে অভিযুক্ত করা হয়। এদের মধ্যে ১৩ জন মৃত্যুদণ্ড এবং বাকি ৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও মামলাসংক্রান্ত বিবরণ অনুযায়ী, মোজাফফর হোসেনই প্রথম রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে শনাক্ত করেন এবং তাকে লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালান। হত্যা নিশ্চিত করার পর তিনিই চট্টগ্রাম সেনানিবাসের ২৪ পদাতিক ডিভিশনের তৎকালীন জিওসি মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরকে টেলিফোন করে বলেন, ‘রাষ্ট্রপতিকে হত্যা করা হয়েছে।’

হত্যাকাণ্ডের পর সেনাবাহিনীর অভিযানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরে মঞ্জুর নিহত হন। ক্যাপ্টেন মোসলেহ উদ্দিন গ্রেপ্তার হয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। তবে মেজর মোজাফফর হোসেন ও মেজর এস এম খালেদ পালিয়ে যান।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad