২ বছরের মাদ্রাসা প্রযুক্তি প্রকল্প গড়াচ্ছে ৯ম বছরে

২ বছরের মাদ্রাসা প্রযুক্তি প্রকল্প গড়াচ্ছে ৯ম বছরে
ছবি: বাসস
Advertisement
Advertisement

বিলম্বিত সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সম্প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর মধ্যেও ২ বছরের মূল সময়সীমা পেরিয়ে ৯ বছর ধরে ঝুলতে থাকা একটি প্রকল্পের মেয়াদ আরও এক দফা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্পটি পর্যালোচনার জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) উঠেছে।

মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর পরিচালিত ‘মাদ্রাসা এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম (মেমিস) সাপোর্ট’ নামের এই প্রকল্পটি ২০১৭ সালের জুলাই মাসে শুরু হয়। সে সময় এটি শেষ করার লক্ষ্য ছিল দুই বছর। কিন্তু গত ৯ বছরে প্রকল্পটিতে দুইবার সংশোধন আনা হয়েছে এবং তিনবার এর সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে এই প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনী প্রস্তাব বিবেচনা করছে একনেক।

নতুন এই প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রকল্পটির বাজেট মূল অনুমোদিত ১০ কোটি ১২ লাখ টাকা থেকে তিন গুণেরও বেশি বাড়িয়ে ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সংশোধনীতে সময়সীমা আরও দুই বছর বাড়িয়ে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য হলো ১৫ হাজার মাদ্রাসার প্রায় ৩৮ লাখ শিক্ষার্থী এবং প্রায় ৩০ লাখ শিক্ষক-কর্মচারীর বিস্তারিত তথ্য নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ডেটাবেজ বা তথ্যভাণ্ডার তৈরি করা। এর পাশাপাশি এর মাধ্যমে মান্থলি পে অর্ডার (এমপিও) কার্যক্রম ডিজিটাল করা হবে এবং ‘গভর্নমেন্ট-টু-পার্সন’ (জিটুপি) পদ্ধতির মাধ্যমে সরাসরি বেতন স্থানান্তর সম্ভব হবে। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য বর্তমানে ১৬টি ক্লাউড-ভিত্তিক সফটওয়্যার মডিউল তৈরির কাজ চলছে।

প্রকল্পের এই বিলম্বের জন্য করোনা মহামারি, ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) সমন্বয়ের জটিলতা, পেমেন্ট গেটওয়ে তৈরি, পে-বিল মডিউল, একটি স্বাধীন ইবতেদায়ী মডিউল তৈরি এবং সামগ্রিক মাঠপর্যায়ের বাস্তব পরিস্থিতিকে দায়ী করেছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর।

আরও পড়ুন

এদিকে, মাদ্রাসা শিক্ষার আরেকটি উদ্যোগও একনেকের পর্যালোচনার অপেক্ষায় রয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় ৬৫৩টি মাদ্রাসায় মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করার কথা, যার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

২০১৭ সালের জুলাই মাসে ৩০ কোটি ৬৫ লাখ টাকা বাজেটে অনুমোদিত এই প্রকল্পটি মূলত ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। এরপর থেকে তিনবার সংশোধনের মাধ্যমে এর বাজেট এবং চারবার সময়সীমা বাড়ানো হয়।

পরিকল্পনা কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুনের মধ্যে এই প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি শতভাগে পৌঁছেছে। তা সত্ত্বেও এর মেয়াদ আরও এক বছর বাড়িয়ে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর পরিকল্পনা কমিশনকে জানিয়েছে, ২০২৫ সালের জুনের মধ্যে ৫৪১টি মাদ্রাসায় মাল্টিমিডিয়া সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়েছে এবং সেগুলোর বিলও প্রক্রিয়া করা হয়েছে। তবে কাস্টমস ও রাজস্ব কর্মীদের ধর্মঘটের কারণে বাকি ১১২টি প্রতিষ্ঠানের জন্য আনা স্মার্ট টিভি প্যানেল চট্টগ্রাম বন্দরে আটকে যায়।

সরবরাহ করা সরঞ্জাম দিয়ে প্রযুক্তিভিত্তিক পাঠদান চালু হলেও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এখনও তাদের পাওনা টাকা পায়নি। কারণ ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) এই প্রকল্পটিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। অথচ এই অর্থ বছরেই প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (উন্নয়ন) মো. জহুরুল ইসলাম টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘কেবল বকেয়া বিল পরিশোধের প্রক্রিয়া সহজ করার জন্যই এই প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাবটি করা হয়েছে।’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad