উন্নয়ন প্রকল্পের মেয়াদ বারবার বাড়িয়ে সময় ও অর্থের অপচয় করার দীর্ঘদিনের সংস্কৃতি বন্ধ করতে কঠোর অবস্থান নিচ্ছে সরকার। কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ না হওয়া প্রকল্পগুলোর বিলম্বের কারণ তদন্ত করতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
একইসঙ্গে এই বিলম্বের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। বিলম্বিত প্রকল্পগুলোর মূল কারণ খতিয়ে দেখতে ইতোমধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে উপস্থিত কয়েকজন কর্মকর্তা টাইমস অব বাংলাদেশ’কে জানান, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন প্রকল্প বিলম্বের পেছনে কোনো যৌক্তিক কারণ থাকলে তা বিবেচনা করা হবে।
তবে যথাযথ কারণ না থাকলে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিটি মন্ত্রণালয়কে তাদের নিজ নিজ প্রকল্পগুলো পর্যালোচনা করে বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
একজন কর্মকর্তা বলেন, প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) সব প্রকল্প বর্তমান সরকারের পাঁচ বছরের মেয়াদের মধ্যেই বাস্তবায়ন করতে হবে। নতুন প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে সরকারের অগ্রাধিকার এবং জনকল্যাণকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।
একইসঙ্গে, কম গুরুত্বপূর্ণ বা দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা প্রকল্পগুলো বাদ দিয়ে বেশি উৎপাদনশীল এবং জনকল্যাণমুখী প্রকল্পগুলোকে প্রাধান্য দিতে হবে।
পরিকল্পনা সচিব এস এম শাকিল আখতার টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর প্রকল্পগুলো যাচাই-বাছাই করতে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব এই কমিটির নেতৃত্ব দেবেন। বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) প্রয়োজনীয় সব তথ্য ও উপাত্ত দিয়ে কমিটিকে সার্বিক সহায়তা করবে।
সাবেক আইএমইডি সচিব প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তী সরকারের এই পদক্ষেপের প্রশংসা করে বলেন, যখন একটি প্রকল্প অনুমোদন করা হয় তখন একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। যদি সেই সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হয়, তবে তার পেছনে অবশ্যই যৌক্তিক কারণ থাকতে হবে। তা না হলে কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা খুবই স্বাভাবিক বিষয়।
তিনি আরও বলেন, একটি প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়, প্রকল্প যাচাই কমিটি, পরিকল্পনা কমিশন এবং একনেকসহ একাধিক স্তরে পর্যালোচনা করা হয়। এরপরেও যদি প্রকল্প যথাসময়ে বাস্তবায়িত না হয়, তবে তার দায় অবশ্যই নির্ধারণ করতে হবে।
প্রকল্পের মেয়াদ বারবার বাড়ানোর বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেন, প্রশাসনিক পরিবর্তন, ঘন ঘন কর্মকর্তা বদলি, প্রশিক্ষণ বা অন্যান্য কারণে প্রায়ই প্রকল্পের বাস্তবায়ন ধীরগতির হয়ে পড়ে। পাশাপাশি দুর্বল পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাও এর জন্য দায়ী হতে পারে।
তিনি যোগ করেন, আইএমইডি, পরিকল্পনা কমিশন, অর্থ বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত এডিপি পর্যালোচনা সভাগুলো যদি আরও কার্যকর হতো, তবে অনেক প্রকল্পের বিলম্বের কারণ আগেই চিহ্নিত করে সমাধান করা যেত। অত্যন্ত কম অগ্রগতি হওয়া প্রকল্পগুলো পুনর্মূল্যায়ন করার বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানান প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তী।


