কমপক্ষে ১০ লাখ ডলার বা ৭ দশমিক ৫ লাখ পাউন্ড দিতে সক্ষম ধনী বিদেশিদের জন্য ‘ট্রাম্প গোল্ড কার্ড’ চালু করলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানান, বিভিন্ন দেশের ধনী অভিবাসন প্রত্যাশীদের ভিসা জটিলতা নিরসন ও দ্রুত মার্কিন ভিসা দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়ছে।
বুধবার সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প বলেন, ‘এই কার্ড যোগ্য ও যাচাইকৃত ব্যক্তিদের জন্য মার্কিন নাগরিকত্ব লাভের সরাসরি পথ। খুবই রোমাঞ্চকর! আমাদের মহান আমেরিকান কোম্পানিগুলো অবশেষে তাদের অমূল্য প্রতিভা ধরে রাখতে পারবে।’
বিবিসির খবরে বলা হয়, চলতি বছরের শুরুর দিকে ধনী বিদেশিদের জন্য প্রথম গোল্ড কার্ড ভিসা দেওয়ার ঘোষণা দেন ট্রাম্প। কার্ড সংক্রান্ত ওয়েবসাইটে বলা হয়, এটি এমন একটি মার্কিন ভিসা যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘উল্লেখযোগ্য উপকার’ এনে দিতে সক্ষম- এমন ব্যক্তিদের দেওয়া হবে।
ওয়েবসাইটে আরও বলা হয়, গোল্ড কার্ড কর্মসূচি ‘রেকর্ড সময়ে’ যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের অনুমতির প্রতিশ্রুতি দেয় এবং এর জন্য ১০ লাখ ডলার ফি লাগবে। এই অর্থ ‘অভিবাসী ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য উল্লেখযোগ্য উপকারে আসবে’ তার প্রমাণ হিসেবে গণ্য হবে।
মার্কিন অভিবাসন প্রত্যাশীদের বিভাগ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ও ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস জানায়, ট্রাম্প গোল্ড কার্ড ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র অভিবাসন প্রত্যাশীদের সুযোগ দেবে। আর এর জন্য সবচেয়ে সহজ উপায় দক্ষ কর্মী ভিসা।
এক্ষেত্রে কর্মীদের ভিসার ব্যবস্থা করে দেবে ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। তবে তাদের গুনতে হবে ২০ লাখ ডলার। এ ছাড়া গত সেপ্টেম্বরে ট্রাম্প দক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য এইচ-ওয়ান বি ভিসা প্রোগ্রামের আবেদনকারীদের জন্য এক লাখ ডলার ফি আরোপের নির্দেশে সই করেন।
পাশাপাশি ৫০ লাখ ডলারের ‘প্ল্যাটিনাম’ সংস্করণও আনতে যাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। এই ভিসাধারীদের জন্য বিশেষ কর ছাড় দেবে যুক্তরাষ্ট্র।
আবেদনকারীর নথিপত্র যাচাইয়ে অসঙ্গতি দেখা দিলে পুনরায় বিবেচনার জন্য অতিরিক্ত সরকারি ফি ধার্য হতে পারে। আবেদন পর্যালোচনার আগে প্রত্যেক অভিবাসন প্রত্যাশীকে ১৫ হাজার ডলার নন-রিফান্ডেবল প্রসেসিং ফি (অফেরতযোগ্য) দিতে হবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট এমন এক সময় ট্রাম্প গোল্ড কার্ড চালু করলেন যখন ওয়াশিংটনে অভিবাসন দমন আরও কঠোর করা হয়েছে। সেই সঙ্গে দক্ষ কর্মী ভিসার ফি বাড়ানো এবং নথি-পত্রবিহীন অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের অভিযান আরও ত্বরান্বিত করা হয়েছে।
ট্রাম্প পরিকল্পনাটি উন্মোচনের সময় এটিকে গ্রিন কার্ডের সঙ্গে তুলনা করেন। সাধারণত গ্রিন কার্ডধারীরা পাঁচ বছর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের পর নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্য হন। গ্রিন কার্ড পাওয়ার জন্য উপার্জন মুখ্য বিষয় ছিল না, যেকোনো অভিবাসীই আবেদন করতে পারতেন।
তবে গোল্ড কার্ড লক্ষ্য করা হয়েছে বিশেষভাবে ‘উচ্চ-স্তরের’ পেশাজীবীদের দিকে। ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, ‘আমরা এমন মানুষ চাই যারা উৎপাদনশীল।’
‘যারা ৫০ লাখ ডলার দিতে পারবে, তারা নতুন চাকরির সুযোগও তৈরি করতে পারবে। এটি দারুণ বিক্রি হবে। এটি এক প্রকার সস্তা চুক্তি।’
এদিকে অনুন্নত প্রায় ৩০টি দেশের ব্যক্তিদের যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আবেদন স্থগিত করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। সেই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাও দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।


