পোস্তগোলা: বৃষ্টি হলেই যেখানে স্থবির জনজীবন

পোস্তগোলা: বৃষ্টি হলেই যেখানে স্থবির জনজীবন
স্থায়ী জলাবদ্ধতায় নাকাল পোস্তগোলার জনজীবন। ছবি: জান্নাতুল ফেরদাউস/ টাইমস
Advertisement
Advertisement

বুড়িগঙ্গা নদীর তীরবর্তী প্রাণচঞ্চল এক এলাকার নাম পোস্তগোলা। অল্প একটু বৃষ্টি হলেই যেন স্থবির হয়ে পড়ে সেখানকার জনজীবন। অলিগলিগুলো রূপ নেয় অস্থায়ী ও অগভীর খাল কিংবা নালায়। নর্দমার নোংরা পানি মিশে আবর্জনায় সয়লাব হয়ে ওঠে রাস্তাঘাট।

দিনের পর দিন জলাবদ্ধতায় সেসব রাস্তা চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ায় প্রতিনিয়ত ভোগান্তি পোহাতে হয় স্থানীয়দের। প্রায় চার বছর ধরে এভাবেই কাটছে পোস্তগোলার বাসিন্দাদের জীবন।

স্থানীয়রা জানান, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সড়কের পাশে পোস্তগোলা সেতু নির্মাণের পর থেকেই শুরু এ দুর্ভোগ। এ অঞ্চলের জনগণের যোগাযোগ সহজ করতে সেতু নির্মাণ হলেও সেটিই এখন ভোগান্তির কারণ।

নতুন সেতু তৈরির সময় মাটি ফেলে জমি উঁচু করায় চারপাশের জমি মূল সড়ক থেকে বেশ নিচু হয়ে যায়। এতে বৃষ্টির পানি সেসব জমিতে আটকে গিয়ে রাস্তায় স্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে। পর্যাপ্ত নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় দিনের পর দিন এ পানি আটকে থাকে।

ছবি: জান্নাতুল ফেরদাউস/ টাইমস

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) বছরের পর বছর ধরে চলা নাগরিক সমস্যার সমাধানে একাধিকবার চেষ্টা করলেও তেমন পরিবর্তন আনতে পারেনি। জলাবদ্ধতা নিরসনে কোনো প্রকল্পই সফলভাবে বাস্তবায়ন হয়নি। স্থানীয়রাও হাল ছেড়ে দিয়েছেন। রাস্তায় নোংরা পানি আর দুর্গম যাতায়াত ব্যবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে প্রশাসনকে অনেকটা কটাক্ষ করে তারা বলেন, ‘কেবল সূর্যই এখন তাদের রাস্তা শুকাতে পারে।’

আরও পড়ুন

টাইমস অব বাংলাদেশ সরেজমিনে এলাকা ঘুরে দেখতে পায়, জলাবদ্ধতার মধ্যে পোস্তগোলার মানুষের নিত্যদিনের জীবন যেন এক সংগ্রাম। পানি এড়াতে হাঁটা পথে, অল্প দূরত্বেও রিকশায় চড়তে বাধ্য হন অনেকে। রিকশাচালকরা কাদামাটি, আবর্জনায় ভরপুর ওই পানির ভেতর দিয়ে ঠেলে নিয়ে চলেন যান। চাকা ঘুরলেই চারপাশে ছিটকে পড়ে নোংরা পানি। পথচারীরা বাধ্য হয়ে প্যান্ট গুটিয়ে, মালামাল, ব্যাগ-পত্র মাথার ওপরে তুলে পানি ভেঙে গন্তব্যে পৌঁছান।

ছবি: জান্নাতুল ফেরদাউস/ টাইমস

স্থানীয় দোকানদার ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এমন স্থায়ী জলাবদ্ধতা নিছক অসুবিধা নয় বরং জীবিকা ও স্বাস্থ্যের জন্যও বড় হুমকি। জমে থাকা পানিতে মশার প্রজনন বাড়ায় ছড়ায় ডেঙ্গু এবং চিকুনগুনিয়া রোগের মতো প্রাণঘাতী মশাবাহিত রোগ।

স্থানীয় একজন বলেন, ‘এমন পরিস্থিতিতে আছি, একবার ভুল করে রাস্তায় পা দিলেই হাঁটু পর্যন্ত দুর্গন্ধময় কালো পানিতে ডুবে যায়। আর এমন দুর্গন্ধ যা অনেক সময় পরেও দূর হয় না।’

কয়েক দফার চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে প্রশাসনও যেন নিশ্চুপ হয়ে গেছে। পোস্তগোলার এই দুর্ভোগ মনে করিয়ে দেয় ঢাকার নিচু এলাকার উন্নয়নের আড়ালে লুকিয়ে থাকা বিপুল ব্যয়। তবে আপাতত কোনো স্থায়ী সমাধানের পথ দেখাতে পারছে না সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর