বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলছেন, ‘সারা দেশে জনজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিটি সমাবেশে পুরুষের মতো নারীরাও আসছেন। তারা এসে বলছেন, তারা ন্যায়ের পক্ষে আছেন। সত্য দরজায় কড়া নেড়ে বলছে, সত্য এসে গেছে, মিথ্যা পালিয়ে যাচ্ছে। সত্যের বিজয় হবে ইনশাআল্লাহ। প্রস্তুতি গ্রহণ করুন, ১২ তারিখ রাতে নিজেদের পাওনা সঙ্গে নিয়ে ঘরে ফিরবেন।’
বৃহস্পতিবার বিকালে নাটোরে নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা সরকারি কলেজ মাঠে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘লুটেরা, ব্যাংক ডাকাতরা, শেয়ার মার্কেট লুণ্ঠনকারীরা আমার দেশের ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। আল্লাহ যদি আমাদের সাহায্য করেন, সামর্থ্য দেন, তাহলে হাত ঢুকিয়ে ওদের পেটের ভেতর থেকে তা বের করে আনব এবং সেই টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হবে।’
তিনি বলেন, ‘যে এলাকা যতটা বঞ্চিত, আগে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চলে যাবে ওই এলাকায়। যার যেটা পাওনা, তাকে সেটা দিতে হবে।’
জামায়াত আমির আরও বলেন, ‘আমরা সমাজে এমন ন্যায় বিচার দেখার পক্ষে, যে বিচার এক একজনের জন্য একেক রকম হবে না । একজন সাধারণ মানুষ নির্দিষ্ট অপরাধ করলে তার বিচারে যে শাস্তি হবে, দেশের প্রধানমন্ত্রী কিংবা রাষ্ট্রপতি যদি সেই একই অপরাধ করেন, তাদেরও ছাড় দিয়ে কথা বলা হবে না। একই বিচারের আওতায় আনতে হবে। এর নাম ন্যায়বিচার। জাতি মুখিয়ে আছে সেই বিচার দেখার জন্য।’
লুটেরাদের জন্য ভোটাররা লালকার্ড তৈরি করে রেখেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যারা আগেও দেশের টাকা চুরি করেছে, তারা এখনো চুরি করে। যারা তখনো ব্যাংক লুণ্ঠন করেছে, এখনো করে। ১২ তারিখ দেশের সাড়ে ১২ কোটি ভোটার তাদের জন্য সাড়ে ১২ কোটি লালকার্ড তৈরি করে রেখেছেন।’
যুবদের নিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমাদের যুবকরা যেভাবে এই বাংলাদেশকে সোনার দেশ হিসেবে গড়ে দিতে পারতো, সেই সুযোগ আমরা তাদের দেইনি। আমরা ওই সুযোগ নিশ্চিত করবো, ইনশাআল্লাহ।’
নির্বাচনী জনসভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল, ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ, চাকসুর ভিপি ইব্রাহিম রনি। এ ছাড়াও জেলা জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


