জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধনের পর পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি বলেন, জাদুঘরের উদ্বোধনের পর পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে, যাতে দুর্নীতির কিছু থাকলে, তা তদন্তে বেরিয়ে আসে। এরপর কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রমাণ মিললে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, ‘অস্পষ্ট বা সাধারণভাবে করা দুর্নীতির অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব নয়। অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, অভিযোগের ধরন এবং কীভাবে দুর্নীতি হয়েছে তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে। “অনেক দুর্নীতি হয়েছে” ধরনের অভিযোগ আইনের ভাষায় “ভেগ অ্যান্ড ইনডেফিনিট”। আইনি প্রক্রিয়ায় অভিযোগ অবশ্যই সুনির্দিষ্ট হতে হবে এবং একজন অভিযোগকারী থাকতে হবে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
‘আইনগত তদন্তের জন্য আনুষ্ঠানিক অভিযোগ প্রয়োজন। অভিযোগে দুর্নীতির বিষয় থাকলে তা দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পাঠানো হবে। আর ফৌজদারি অপরাধের বিষয় হলে সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ায় মামলা করা হবে,’ যোগ করেন তিনি।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘সংবাদপত্রের প্রতিবেদন বা জনসভায় দেওয়া বক্তব্য আদালতে গ্রহণযোগ্য প্রমাণ নয়। আদালতে গ্রহণযোগ্য প্রমাণের জন্য আইনে নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়।’
মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব দায়িত্বের অংশ হিসেবে প্রয়োজন মনে করলে অভ্যন্তরীণ তদন্ত করা যেতে পারে। এ বিষয়ে পরিচালনা পর্ষদ সিদ্ধান্ত নেবে বলেও জানান নিতাই রায় চৌধুরী।
সংবাদ সম্মেলনে জাদুঘরের জনবল নিয়োগ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নিয়োগ মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী নিয়োগ করা হবে। জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং উদ্বোধনের পর থেকেই জাদুঘর দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।’
আগামী ৫ আগস্ট থেকেই জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আনুষ্ঠানিকভাবে খোলা থাকবে বলেও জানান সংস্কৃতিমন্ত্রী।


