টেস্ট ক্রিকেটের ১৪৮ বছরের ইতিহাসে ১১-তম ব্যাটার হিসেবে নিজের শততম ম্যাচে সেঞ্চুরি করলেন মুশফিকুর রহিম। মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনে ক্যারিয়ারের ১৩তম সেঞ্চুরি ছুঁয়েছেন এই ডানহাতি ব্যাটার। আগের দিনের খেলা শেষ করেছিলেন ৯৯ রানে অপরাজিত থেকে। তাই সেঞ্চুরিটা নিয়ে জল্পনা-কল্পনাও ছিল বেশ।
ম্যাথু হামফ্রিসের করা দিনের প্রথম ওভারের প্রথম বলটা খেলেছেন মুশফিক। এই বলটা ঘিরেই ছিল আগ্রহ, মুশফিক কী করেন ভেবে। দেখেশুনে ছেড়ে দেন অফস্টাম্পের বাইরের বলটা। পরের তিনটা বলও খেলেছেন ডট। তবে সেই ওভারের শেষ দুই বল ছিল বেশ ঘটনাবহুল। পঞ্চম বলে ওঠে জোরালো লেগ বিফোরের দাবি। বলের লাইন মিস করে বসেন মুশফিক, তবে ব্যাটের কানা ছুঁয়ে বল প্যাডে লাগায় সেই যাত্রায় বেঁচে যান এই অভিজ্ঞ ব্যাটার। ওভারের শেষ বলটা গিয়েছে মুশফিকের অফস্টাম্প ঘেঁষে। সেঞ্চুরি করার চাপেই কিনা লাইন মিস করে বসেন তিনি!
সেঞ্চুরি ছুঁয়েছেন জর্ডান নিলের করা পরের ওভারের তৃতীয় বলে। মিডল-লেগে পিচ করা বলে শাফল করে বল স্কয়ার লেগে পাঠিয়ে ছুটেছেন সিংগেলের জন্য। ফুরিয়েছে সেঞ্চুরির অপেক্ষা।
১৯৫ বলে সেঞ্চুরি করে আরও একটা রেকর্ডও করেছেন এই ডানহাতি ব্যাটার। নিজের ঐতিহাসিক অর্জনের দিনে হয়েছেন দেশের যুগ্ম সর্বোচ্চ সেঞ্চুরিয়ানও। মুমিনুল হকের সাথে সর্বোচ্চ ১৩টি সেঞ্চুরি এখন মুশফিকও। যদিও সেঞ্চুরির পর ইনিংস বেশি দূর টেনে নিতে পারেননি তিনি। হামফ্রিসের টার্ন করে বেরিয়ে যাওয়া বলে খোঁচা মেরে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে আউট হয়েছেন ২১৪ বলে ৫ চারে সাজানো ১০৬ রানের ইনিংস খেলে।
মুশফিকের আগে সর্বশেষ শততম টেস্টে সেঞ্চুরি করেছিলেন ডেভিড ওয়ার্নার। ২০২২ সালে মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সেই ম্যাচে অবশ্য ডাবল সেঞ্চুরিতেও নিয়ে গিয়েছিলেন সেই ইনিংসকে।
শততম টেস্টে সেঞ্চুরি করেছেন যারা
কলিন কাউড্রি, গর্ডন গ্রিনিজ, জাভেদ মিঁয়াদাদ, অ্যালেক স্টুয়ার্ট, ইনজামাম উল হক, রিকি পন্টিং (দুই ইনিংসেই), গ্রায়েম স্মিথ, হাশিম আমলা, জো রুট ও ডেভিড ওয়ার্নার ও মুশফিকুর রহিম।


