ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপারেশন) এস এন মো. নজরুল ইসলাম বলেছেন, দেশকে অস্থিতিশীল করতেই ঝটিকা মিছিলের চেষ্টা করছে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
তিনি জানান, ‘ঝটিকা মিছিল ও অপতৎপরতার পেছনে দেশ এবং বিদেশ থেকে অর্থ যোগান দেয়া হচ্ছে এবং গ্রেপ্তার হওয়া বেশ কয়েকজনের কাছ থেকে জানা গেছে যে, তারা টাকার বিনিময়ে মিছিলে অংশ নিয়েছেন।‘ বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত কমিশনার এসব তথ্য জানান।
রাজধানীর তেজগাঁও, বসুন্ধরা, উত্তরা সহ বিভিন্ন এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিলের চেষ্টা চলাকালে ১৪টি ককটেল বোমা ও ৭টি ব্যানারসহ ২৪৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
নজরুল ইসলাম বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায় যে, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনগুলো ঝটিকা মিছিল করার চেষ্টা করতে পারে। সেজন্য পুলিশ তৎপর ছিল।
তিনি আরও জানান, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার পর থেকে ডিএমপি বিভিন্ন সময় ঝটিকা মিছিলের চেষ্টা ও মিছিল করার কারণে ৭৫০ এর অধিক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা জানিয়েছেন, তারা অর্থের বিনিময়ে এসব মিছিলে অংশ নিয়েছেন এবং এর পেছনে দেশি ও বিদেশি অর্থায়ন রয়েছে। তবে নজরুল ইসলাম অর্থ যোগানদাতাদের পরিচয় প্রকাশ করেননি।
ডিএমপি জানায়, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ৫০ জন, সিটিটিসি ২৭ জন, তেজগাঁও বিভাগ ১০০ জন, রমনা বিভাগ ৫৫ জন, গুলশান বিভাগ ৫ জন, মিরপুর বিভাগ ৪ জন এবং উত্তরা বিভাগ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। স্থানীয় জনসাধারণের সহায়তায় এই গ্রেপ্তার অভিযান সফল হয়েছে এবং ১৪টি ককটেল বোমা ও ৭টি ব্যানার উদ্ধার করা হয়েছে।
নজরুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে বলেন, পুলিশ আবাসিক হোটেল, ফ্ল্যাট ও ছাত্রাবাসে অভিযান চালাচ্ছে এবং গোয়েন্দা নজরদারি চলছে। অনেক ফ্ল্যাটে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অবাধে অবস্থান করছেন। তিনি জনগণকে পুলিশকে তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানান, যাতে পুলিশ এসব নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করতে পারে।
তিনি বলেন, যদি জনগণ তথ্য দেয়, তাহলে পুলিশ সেখানে গিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আটক করবে। গ্রেপ্তারের ফলে ঝটিকা মিছিলের সংখ্যা কমে যাবে। যাদের কাছ থেকে তথ্য পাওয়া যাবে, তাদের নাম-পরিচয় গোপন রাখা হবে।
নজরুল ইসলাম আরও বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিনষ্টের চেষ্টা করছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল। তাদের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।


