বিদেশে নেওয়ার মতো অবস্থায় নেই খালেদা জিয়া: মির্জা ফখরুল

বিদেশে নেওয়ার মতো অবস্থায় নেই খালেদা জিয়া: মির্জা ফখরুল
শনিবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, অসুস্থ খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার সব ব্যবস্থা করে রাখলেও তার শারীরিক অবস্থা সেই ধকল সামলানোর মতো নেই।

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে বিদেশে নেওয়ার মতো শারীরিক অবস্থায় তিনি নেই। শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হলে চিন্তা করে দেখা হবে, বিদেশে নেওয়া সম্ভব কি না?’

শনিবার বিকালে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান মির্জা ফখরুল।

তিনি বলেন, শুক্রবার রাতে তারা একটা মেডিকেল বোর্ডে সভা করেছেন। প্রায় আড়াই ঘন্টা ধরে তার চিকিৎসার ব্যাপারে সমস্ত চিকিৎসকদের মতামত নিয়ে আলোচনা হয়েছে ও তারা কথা বলেছেন। কীভাবে চিকিৎসা তারা করবেন এবং সেই চিকিৎসাটা কী ধরনের হবে সে বিষয়ে তারা মতামত দিয়েছেন। কিন্তু চিকিৎসকদের মতামত হচ্ছে তাদের নিজেদের মেডিকেল বোর্ডে চিকিৎসা চলবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বাংলাদেশের অবিসংবাদিত নেত্রী, গণতন্ত্রের মাতা বেগম খালেদা জিয়া বেশ কয়েকদিন ধরে অসুস্থ অবস্থায় রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন এবং তার শারীরিক অবস্থা কিছু সংকটাপন্ন।’

দেশের চিকিৎসকরা, বিদেশের আমেরিকার জন হপকিংস এবং লন্ডনের লন্ডন ক্লিনিকের বিশিষ্ট চিকিৎসকেরা তারা তার চিকিৎসা করছেন। ২৩ নভেম্বর রাতে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বিএনপি চেয়ারপারসনকে ঢাকার বসুন্ধরার এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। পরীক্ষা নিরীক্ষায় বুকে ‘সংক্রমণ’ ধরা পড়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে মেডিকেল বোর্ডের নিবিড় তত্ত্বাবধানে হাসপাতালে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চলছে।

আরও পড়ুন

গত দুইদিন ধরে তার অবস্থা ‘সংকটপন্ন’ হলে বিএনপির পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়ে শুক্রবার সারাদেশে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠান করে।

বিদেশে নেওয়ার কাজ সেরে রাখা

মির্জা ফখরুল বলেন, বিদেশে নেওয়ার জন্য যে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো রয়েছে তার ভিসা, যেসব দেশে যাওয়ার সম্ভব হতে পারে সেইসব দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করা এবং এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের বিষয় নিয়ে যথেষ্ট আলোচনা হয়েছে এবং সেগুলো মোটামুটি কাজ এগিয়ে আছে। অর্থাৎ যদি তার প্রয়োজন হয় এবং যদি দেখা যায় ‘তিনি বিদেশে যেতে পারবেন’ তখন তাকে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে খুবই দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, স্বাভাবিকভাবে খালেদা জিয়া এই দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী এবং তার অসুস্থতায় মানুষ সবাই সব মানুষই উদ্বিগ্ন উৎকণ্ঠিত এবং অসংখ্য মানুষ হাসপাতালে ভিড় করছেন। এতে করে হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ এবং চিকিৎসকরা অত্যন্ত বিব্রত বোধ করছেন।

কেউ দয়া করে হাসপাতালে ভিড় করবেন না উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সকলের সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে অনুরোধ জানাতে চাই যে, অনুগ্রহ করে বিএনপি নেতাকর্মী, তার শুভাকাঙ্ক্ষী বা দেশের মানুষ তারা দয়া করে হাসপাতালে হাসপাতালে ভিড় করবেন না। আমরা সময় মতো আপনাদেরকে তার হেলথ বুলেটিন সম্পর্কে জানাব। কিন্তু কেউ সেখানে উপস্থিত হবেন না।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্মের সাধারণ সম্পাদক একে এম কামরুজ্জামান নান্নু এবং বিজয়ের রোড শো কর্মসূচি উদযাপন কমিটির সদস্য জুবায়ের বাবু।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বেগম জিয়ার অসুস্থতার খবরে দেশের মানুষ উদ্বিগ্ন। অসংখ্য মানুষ হাসপাতালে ভিড় করছেন। এতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং চিকিৎসকরা অত্যন্ত বিব্রত বোধ করছেন। তাদের সেখানে চিকিৎসা কার্যক্রম চালাতে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। আমি সকলের প্রতি অনুরোধ জানাতে চাই যে, আপনারা কেউ হাসপাতালে ভিড় করবেন না।’

এর আগে, ২৩ নভেম্বর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে খালেদা জিয়াকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

বৃহস্পতিবার থেকে সিসিইউতে চিকিৎসাধীন তিনি। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তিত্ব তার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে হাসপাতালে যাচ্ছেন। বিএনপির অনেকে নেতাকর্মীও হাসপাতালের সামনে ভিড় করছেন।

এদিকে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেই তার পরিবারের তাকে লন্ডনে নেয়ার পরিকল্পনা আছে। সেই লক্ষ্যে সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত একটি বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ব্যবস্থার উদ্যোগও নেয়া হচ্ছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর