খুলনায় এক পরিবারের তিন হত্যার রহস্য উন্মোচন

খুলনায় এক পরিবারের তিন হত্যার রহস্য উন্মোচন
প্রতীকী ছবি
Advertisement
Advertisement

খুলনায় এক পরিবারের দুই শিশু ও তাদের নানিকে হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ।

শনিবার দুপুরে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ্।

পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে পারিবারিক সম্পত্তির বিরোধই ছিল হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ।

গত ১৬ নভেম্বর নগরীর লবণচরা থানার ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের দরবেশ গলিতে নিজ বাড়িতে হত্যা করা হয় নানি মহিতুন্নেছা ও তার দুই নাতি-নাতনি মুস্তাকিম এবং ফাতিহাকে।

নিহত শিশুদের মা খুলনা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে এবং বাবা খুলনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিতে চাকরি করেন।

পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা শামীম আহমেদ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

বিদেশে পালানোর চেষ্টা করার সময় গত বুধবার রাতে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে আটক করা হয়।

আরও পড়ুন

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ্ জানান, নিহত শিশুদের বাবা বাদী শেফার আহম্মেদ ও গ্রেপ্তার শামীম আহমেদ মামাতো-ফুফাতো ভাই। রুপসা এলাকায় পারিবারিক জমি নিয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ও মামলা চলছিল।

পুলিশ জানিয়েছে, শামীম একসময় একটি অস্ত্র মামলায় কারাগারে যান। সেখানে একটি সন্ত্রাসী চক্রের সদস্যের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে।

কারাগার থেকে বের হয়ে শামীম ওই চক্রের সদস্যদের অর্থের বিনিময়ে ভাড়া করে প্রতিপক্ষ শেফার আহম্মেদের পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করার পরিকল্পনা করেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ১৬ নভেম্বর সন্ত্রাসীদের সঙ্গে নিয়ে তিনি সেফার আহম্মেদের বাড়িতে প্রবেশ করেন এবং নানি ও দুই শিশুকে ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করেন।

হত্যাকাণ্ডে চার থেকে ছয়জন অংশ নেয়, যাদের মধ্যে চারজন সরাসরি হত্যায় যুক্ত ছিল এবং বাকিরা বাইরে পাহারা দেয়।

ঘটনার পর শামীম পলাতক ছিলেন এবং বিদেশে পালানোর চেষ্টা করছিলেন। বিমানবন্দর পুলিশ তাকে আটক করে লবণচরা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

শুক্রবার তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন খুলনা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. আসাদুজ্জামান এবং তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

বাকি সহযোগীদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর