ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে মাঝ নদীতে নৌকায় দুই নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এক যুবককে প্রধান আসামি করে ও অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচজনের বিরুদ্ধে সরাইল থানায় মামলা করা হয়েছে।
মামলাটি করেন ভুক্তভোগী এক নারী। তিনি কুমিল্লার চান্দিনা এলাকার বাসিন্দা এবং একজন নৃত্যশিল্পী।
জানা গেছে, সরাইলে একটি বাড়িতে আয়োজিত বিয়ের অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশনের জন্য ভুক্তভোগী ওই নারী ও তার দলকে ৯ হাজার টাকায় চুক্তি করা হয়। চুক্তি অনুযায়ী গত বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে তিনি তার দলের দুই সদস্যকে নিয়ে সরাইলে আসেন।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, অনুষ্ঠানের আয়োজকদের পক্ষ থেকে রাকিব নামে এক যুবক তাদের সরাইলের শাহবাজপুর ব্রিজের নিচে নিয়ে যান। সেখানে রাকিব আরও পাঁচজনকে সঙ্গে নিয়ে তাদের দ্রুত নদীপথে বিয়ের অনুষ্ঠানে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় উঠতে বলেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, নৌকাটি ব্রিজ থেকে প্রায় ৩০-৪০ গজ দূরে তিতাস নদীর মাঝামাঝি পৌঁছালে ইঞ্জিন বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে নৌকার ছাউনির ভেতরে নিয়ে দুই নারীকে ধর্ষণ করা হয়। এ সময় তাদের সঙ্গে থাকা এক পুরুষ সদস্য বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তার গলায় ধারালো অস্ত্র ধরে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
এজাহারে আরও বলা হয়, বিকাল সাড়ে ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত নদীর মাঝখানে নৌকার ভেতরে অভিযুক্তরা ওই দুই নারীকে একাধিকবার ধর্ষণ করে। পরে রাত আনুমানিক ৮টার দিকে তাদের নাসিরনগর থানার গোকর্ণঘাট নদীর পাড়ে নামিয়ে দিয়ে অভিযুক্তরা চলে যায়।
ঘটনার পর ভুক্তভোগীরা নাসিরনগর থানায় গেলে ঘটনাস্থল সরাইল থানার আওতাধীন হওয়ায় সেখানে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী এক নারী বাদী হয়ে শুক্রবার সরাইল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।
সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনজুর কাদের ভূঁইয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের গ্রেপ্তার করা হবে।


