চট্টগ্রামের খুলশীতে অনলাইন প্রতারণার অভিযোগে আটক ৬৩ বিদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা হয়েছে।
শুক্রবার রাতে খুলশী থানায় মামলাটি করা হয়। পরে তাদের আদালতে হাজির করা হলে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।
মামলার তদন্তভার পেয়েছে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট (সিটিটিসি)। তদন্তের প্রয়োজনে তাদের কয়েকজনের রিমান্ড চেয়ে রোববার আদালতে আবেদন করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি প্রসিকিউশন) মোহাম্মদ হাসান ইকবাল চৌধুরী।
তিনি বলেন, ‘শুক্রবার রাতে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা হওয়ার পর ৬৩ বিদেশিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। রোববার তাদের কয়েকজনের রিমান্ড চাওয়া হতে পারে।’
এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে খুলশীর কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার জালালাবাদ হাউজিং সোসাইটির একটি আটতলা ভবনের পঞ্চম তলার ‘ই-২’ নম্বর ফ্ল্যাটে অভিযান চালায় পুলিশ। সেখান থেকে ৬৩ বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়।
অভিযানে ফ্ল্যাটটি থেকে ১৩৪টি মোবাইল ফোন, ৫৭টি ল্যাপটপ, একটি ট্যাব, সিপিইউ, মনিটর, প্রিন্টার, পেনড্রাইভসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
তবে জব্দ ডিভাইসগুলোর ফরেনসিক ও প্রযুক্তিগত পরীক্ষা এখনো শুরু হয়নি। এগুলো সিটিটিসির হেফাজতে রয়েছে। আদালতের অনুমতি পাওয়ার পর পরীক্ষা শুরু হবে।
সিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) ফয়সাল আহমদ বলেন, ‘আদালত অনুমতি দিলে জব্দ ডিভাইসগুলোর তদন্ত শুরু হবে।’
তিনি বলেন, ‘মোবাইল ফোন, ল্যাপটপসহ অন্যান্য ডিভাইস থেকে অনলাইন প্রতারণার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। তবে পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেখানে কী ধরনের কার্যক্রম চলছিল, তা বিস্তারিত বলা সম্ভব নয়।’
মামলার এজাহারে ৬৩ বিদেশির সবার বর্তমান ঠিকানা হিসেবে ওই ফ্ল্যাটের ঠিকানা উল্লেখ করা হয়েছে।
আটকদের মধ্যে লাওসের ৩৫ জন, পাকিস্তানের ২১ জন, চীনের পাঁচজন, নেপালের একজন ও ভিয়েতনামের একজন নাগরিক রয়েছেন।
লাওসের ৩৫ নাগরিক হলেন তিয়েং, মানি ভ্যান, কেও, তোক, সিমোনেখাম, দাও, মেকো, আলী, সাকোন, খোন চাই, বুন মি, তোয়ো, সুকসাখোন, সুলিসা, মানিভান চান্থাফোন, ফুয়াং, মাই, বুনথাভি, কেওমানি, সিয়ামপাই, নি, নকসান্নিভাথ বুয়ালিয়েনফাই, সুফাবোন ভং নাই, থিলাকোন ফুন সা ভাথ, ইয়িলেং থর, সোমচিত জাইয়াভং, ফাইমানি সিসোমবুথ, ফেতসামগুয়ান কেওতা, সিলিফং ইনথাভং, থংজিউয়া চান্থাভং, সাইকাথ বুয়াভান, সিভিলাই, মিক্সাই ভংহালাথ, ভিলাইফোন লুয়াংলাথ ও সোমফুভান ফোমফিথাক।
পাকিস্তানের ২১ জন হলেন আহসান সাবির, মোহাম্মদ রিজওয়ান, মোহাম্মদ তালহা, মোহাম্মদ উসমান, মোহাম্মদ রমজান, মোহাম্মদ খান, নাভিদ খান, ফারহান উল্লাহ, রেহান আলী, ফাহাদ জামিল, খিজার ফারুক, জয়নাল-উল-আবেদীন, আলী আহমেদ, আমির জামান, আমজাদ, গহর, হাম্মাদ, হুজাইফ খান, শাহজাদ খান, সোনিয়া ও মরিয়ম।
চীনের পাঁচ নাগরিক হলেন লিউ গুনাং শু, ঝাং কিন, ইয়াং ইয়ং বিও, লিউ বিং ও ইয়াং ঝং হাই।
এ ছাড়া নেপালের সরোজ ও ভিয়েতনামের থুওং থি ডাং রয়েছেন।


