কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় নৌকা ভ্রমণে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া ছাত্রদল নেতা রাকিবুজ্জামান রকির মরদেহ প্রায় ৩৫ ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার সকাল ১০টার দিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সামনে পদ্মা নদীতে ভাসমান অবস্থায় তার মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হলে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা মরদেহটি উদ্ধার করেন।
কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক ওয়াদুদ হোসেন রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এসব তথ্য জানান।
নিহত ছাত্রদল নেতা রকি ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব। তিনি ঝিনাইদহ শৈলকুপ কবিরপুরের মৃত হাসান আলীর ছেলে ।
গত শুক্রবার রাত সোয়া ৯টার দিকে ঈশ্বরদীর হার্ডিঞ্জ ব্রিজের পিলারের সঙ্গে ধাক্কা খায় একটি পিকনিকের নৌকা। নৌকাটিতে প্রায় ১৩০ জন যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনায় তিনজন নৌকা থেকে নদীতে পড়ে নিখোঁজ হন। পরে ফায়ার সার্ভিসের অভিযানে মো. লিটন (৩৮) ও মো. ওয়াহাব (৪৫) নামে নিখোঁজ দুজনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও রকিকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
নৌকায় থাকা যাত্রীদের বরাতে জানা যায়, শুক্রবার সকালে কুষ্টিয়ার কাতলাগাড়ী গড়াই নদী থেকে নৌকায় করে পদ্মা নদীতে পিকনিকে বের হন শতাধিক যাত্রী। রাতে ফেরার পথে হার্ডিঞ্জ ব্রিজের ৫ নম্বর পিলারের সঙ্গে নৌকাটির ধাক্কা লাগে। এতে রকিসহ তিনজন নৌকা থেকে নদীতে পড়ে যান।
এরপর নৌকাটি স্রোতের সঙ্গে ভেসে গিয়ে লালন শাহ সেতুতেও ধাক্কা খায়। পরে নৌকাটি কোনোভাবে নিয়ন্ত্রণে এনে তীরে নেওয়া হয়। স্থানীয়রা নৌকার যাত্রীদের নিরাপদে তীরে তুলে আনেন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান শুরু করেন। তীব্র স্রোতের কারণে রকির সন্ধানে দীর্ঘ সময় ধরে অভিযান চালানো হলেও তাকে উদ্ধার করা যায়নি। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমিরুল আরাফাত।
ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ জাহেদুর রহমান বলেন, পদ্মা নদীতে নিখোঁজ ছাত্রদল নেতা রাকিবুজ্জামান রকির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক ওয়াদুদ হোসেন বলেন, শনিবার খুলনা থেকে ডুবুরি টিম এসে উদ্ধার অভিযান চালায়। তাদের অভিযানে রকিকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। রোববার সকালে ভাসমান অবস্থায় নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
এদিকে রকির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই পরিবার, স্বজন, সহকর্মী এবং স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনের নেতাকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। নিহতের স্বজনেরা জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রকির শেয়ার করা শেষ ছবিটি ভেসে বেড়াচ্ছে। পিকনিকের নৌকাতে উঠেই এই ছবিটি তুলেছিলেন তিনি।


