গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে শক্তিশালী স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী আবদুল মঈন খান।
তিনি বলেন, জনগণের অংশগ্রহণ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করতে হবে। তৃণমূল পর্যায়ে গণতন্ত্রের ভিত্তি শক্ত না হলে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক কাঠামোও সুদৃঢ় হবে না।
রোববার সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেটো রেংগলির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এসব কথা বলেন মন্ত্রী। এ সময় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম উপস্থিত ছিলেন।
মঈন খান বলেন, বাংলাদেশের মতো বিপুল জনসংখ্যার দেশে জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দিতে কার্যকর স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা প্রয়োজন। দেশের জনসংখ্যাকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে হবে।
তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার শক্তিশালী করতে প্রকৃত বিকেন্দ্রীকরণ নিশ্চিত করা জরুরি। স্থানীয় পর্যায়ে জনগণের অংশগ্রহণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ বাড়ালে প্রতিষ্ঠানগুলো আরও কার্যকর হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে বদ্ধপরিকর বলেও জানান তিনি।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও সুইজারল্যান্ডের সম্পর্ক জোরদার, গণতন্ত্র ও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, স্থানীয় সরকার নির্বাচন, গ্রামীণ নারীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেটো রেংগলি দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদারের আগ্রহ প্রকাশ করেন। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি, জনগণের কাছে জবাবদিহি বাড়ানো ও নারী ক্ষমতায়নে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা শক্তিশালী করা ও গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সুদৃঢ় করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিকেন্দ্রীকরণ ও স্থানীয় পর্যায়ে জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতিতে নারীদের সম্পৃক্ত করা, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনের অভিজ্ঞতা বিনিময়ে বাংলাদেশ ও সুইজারল্যান্ডের সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে। পারস্পরিক সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর ও কার্যকর হবে বলে আশা করেন তিনি।
বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসানসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


